ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে কমিউনিস্টদের ভূমিকা (৩য় পর্ব)

কমিউনিস্ট নেতৃত্বে পরিচালিত শ্রমিকশ্রেণির নিজস্ব আন্দোলন যাতে জাতীয় সংগ্রামের মূল প্রবাহের সঙ্গে যুক্ত হতে না পারে এই মতলবে তাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক আক্রমণই ছিল এই মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা। কিন্তু এই আক্রমণ এখানেই থেমে থাকলো না। সমগ্র ১৯২৯ সাল জুড়ে একের পর এক ধর্মঘটগুলিকে নির্মমভাবে দমন করা হলো, সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী প্রতিরোধে জাগ্রত ঘাঁটিগুলিকে একের পর এক উৎখাত করা হলো।

৩য় পর্ব
নিজস্ব গণভিত্তি
কর্মপন্থা প্রকাশিত হওয়ার কয়েক বছর আগে থেকেই জনগণকে সংগঠিত করার কাজ কমিউনিস্টরা শুরু করে দিয়েছিল। কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনালের ষষ্ঠ কংগ্রেসের যে 'উপনিবেশ সম্পর্কীয় নিবন্ধ' তার বৈপ্লবিক উপলব্ধি দ্বারাই জনগণের মধ্যে তাদের কার্যকলাপের ধারা পরিচালিত হতো। বৈপ্লবিক মতাদর্শ ও বৈপ্লবিক পার্টির সরাসরি প্রবেশ লাভ সম্ভব এমন নিজস্ব গণভিত্তি গড়ে তোলার প্রথম প্রচেষ্টার শুরু এখান থেকেই। ক্রমবর্ধমান সংকট এবং শ্রমিকশ্রেণির ধর্মঘট সংগ্রামের ঐ জোয়ারের সময়ে সক্রিয়ভাবে গণ-আন্দোলন আরম্ভ করতে কমিউনিস্টরা শ্রমিক, কৃষক ও যুবকদের মধ্যে নিজেদের ছড়িয়ে দিয়েছিল। শীঘ্রই তারা এমন একটা শক্তি হয়ে উঠল যারা ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক অত্যন্ত বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচিত হলো এবং এ কারণে আক্রমণের লক্ষ্য হয়ে উঠল।
তবে কমিউনিস্টরা জনগণের একটা শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়ে ওঠা অবধি সরকার আর অপেক্ষা করল না। বিপদ ক্রমবর্ধমান দেখে কমিউনিস্ট ভাবধারা মানুষের কাছে গিয়ে পৌঁছানোর অনেক আগেই তার সমস্ত অভিব্যক্তিকে দমন করতে তারা সচেষ্ট হলো। পেশোয়ার ষড়যন্ত্র মামলা এবং কানপুর ষড়যন্ত্র মামলা যাতে মুজফ্ফর আহমদ, শওকত ওসমানি, এস এ ডাঙ্গে এবং দাশগুপ্ত (নলিনী গুপ্ত, যাঁর প্রকৃত নাম নলিনী দাশগুপ্ত) অভিযুক্ত হয়েছিলেন সেগুলি সবই ছিল সমাজতান্ত্রিক ভাবধারার জাগরণকে দমন করার উদ্দেশ্যে প্রাথমিক প্রচেষ্টা।
কিন্তু সমাজতান্ত্রিক ধ্যান-ধারণার সম্প্রসারণকে দমন-পীড়ন রোধ করতে পারেনি। অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেওয়ার পরে গান্ধীবাদ সম্পর্কে যারা মোহমুক্ত হয়েছিল সেইসব ভারতীয় যুবকদের মনে প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র সোভিয়েত রাশিয়া সংক্রান্ত খবরাখবর, ব্রিটিশ শ্রমিকদের সাধারণ ধর্মঘট (১৯২৬ সাল) সহ বিদেশের ক্রমবর্ধমান আন্দোলনসমূহ ক্রমশই বেশি বেশি করে ছাপ ফেলতে শুরু করেছিল।
যুবকদের মধ্যে একটা বড় অংশ সেই সময়ে যদিও বা সাময়িকভাবে হীনমনোবল হয়ে থাকে, এমনকি রাজনৈতিক বোধও হারিয়ে থাকে এবং আর একটি অংশ পেটি বুর্জোয়া বিপ্লববাদের দিকে ঝুঁকেও থাকে, তাহলেও তাদের একটি অংশ কিন্তু কংগ্রেস নেতাদের এড়িয়ে স্বাধীনভাবে, মার্কসীয় মতাদর্শ দ্বারা উৎসাহিত হয়ে, জনগণের প্রতি যে বিশ্বাস তাই নিয়ে তাদের সংগঠিত করতে সুনিশ্চিতভাবেই ব্রতী হয়েছিল। একটি নতুন ধরনের রাজনৈতিক সংগঠন শ্রমিক ও কৃষক পার্টির আবির্ভাব ঘটল এবং তা জাতীয় কংগ্রেসে অন্তর্ভুক্ত জঙ্গি কর্মীদের সঙ্গে কমিউনিস্টদের একতাবদ্ধ করল। এর জন্য একটি বৈপ্লবিক কর্মসূচি উপস্থিত করার যে উদ্যোগ তা কমিউনিস্টরাই গ্রহণ করেছিল। স্বাধীনতা এবং কৃষিবিপ্লবের কর্মসূচি গ্রহণ করছে এমনই একটি ব্যাপকতর সংগঠন হতে হয়েছিল শ্রমিক ও কৃষক পার্টিকে। ১৯২৬ সালে বাংলাতে সর্বপ্রথম শ্রমিক ও কৃষক পার্টি গঠিত হয়েছিল। শীঘ্রই অনুরূপ সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বোম্বাই, যুক্ত প্রদেশ ও পাঞ্জাবে। এরাই সারা ভারত শ্রমিক ও কৃষক পার্টির মধ্যে মিলিত হয়ে তাদের প্রথম কংগ্রেসের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করল ১৯২০ সালের ডিসেম্বর মাসে।
সারা ভারত শ্রমিক ও কৃষক পার্টির কংগ্রেস ভারতবর্ষের পূর্ণ স্বাধীনতার জন্য এক সংগ্রামের আহ্বান জানিয়ে প্রস্তাব গ্রহণ করেছিল। এই প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছিল যে, সংগ্রামের সাফল্যের প্রয়োজনে শ্রমিকশ্রেণির নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে এবং এর জন্য কৃষক ও যুবকদের মধ্যে সক্রিয়তা বৃদ্ধি করতে কমিউনিস্ট মনোভাবাপন্ন শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছিল।
১৯২৬ সাল থেকে ১৯২৮ সালের মধ্যে, ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের চিত্রে দ্রুত পরিবর্তন ঘটতে শুরু করেছিল। শ্রমিকশ্রেণিই যে সমাজতন্ত্রের পতাকাবাহী সেকথা জেনে এবং জাতীয় বৈপ্লবিক সংগ্রামে নেতৃত্বের ভূমিকা পালনের যোগ্যতা যে তাদেরই আছে, সে বিষয়ে সুনিশ্চিত থাকা কমিউনিস্ট পার্টি গুরুত্ব সহকারে এই শ্রেণিটিকেই সংগঠিত করার কাজে ব্রতী হয়েছিল। সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রামের চেতনায় আমূল পরিবর্তন এবং কৃষিবিপ্লবের জন্য সংগ্রামের পথ উন্মুক্ত করে দেওয়াই শ্রমিকশ্রেণির নেতৃত্বের হাতিয়ারস্বরূপ হয়ে উঠেছিল।
শ্রমিকশ্রেণির সংগ্রামের অগ্রগতি
সময়টা তখন ছিল অনুকূল। ১৯২৬ সালের যে সময়ে ঔপনিবেশিক দেশগুলিতে বিশ্ব অর্থনৈতিক সংকট শুরু হয়ে গেল সেই সময়ে ভারতীয় শ্রমিকশ্রেণিকে দীর্ঘকাল ধরে একটানা বিশাল বিশাল ধর্মঘট পরিচালনা করতে ও সুশৃঙ্খল সেনাবাহিনীর মতো কাজ করতে দেখা গিয়েছিল। আগেকার আকস্মিক, ক্ষিপ্র অথচ স্বল্পকাল স্থায়ী সংগ্রামের যে প্রাথমিক পর্যায়, তার পরিবর্তে তখন দীর্ঘ একটানা সংগ্রাম দেখা দিল। খড়গপুর ও লিলুয়ায় রেল শ্রমিকদের দীর্ঘস্থায়ী ধর্মঘট (লিলুয়ার ধর্মঘটকালে পুলিসের গুলিতে দুইজন শ্রমিকের মৃত্যু ঘটেছিল), সমগ্র দক্ষিণ ভারতীয় রেলওয়ে জুড়ে দশ দিনের এক জঙ্গি ধর্মঘট, ১৯৩০ সালের সত্যাগ্রহ আন্দোলনের জন্য দেশব্যাপী প্রস্তুতির মাঝখানেই জিআইপি রেলওয়েতে ধর্মঘট, বোম্বাই-এর সমগ্র বস্ত্রশিল্পে ১৯২৮ সালের ২৬ এপ্রিল থেকে প্রায় ৬ মাস ধরে চলা ধর্মঘট, ১৯২৯ সালের বস্ত্রশিল্পের দ্বিতীয় ধর্মঘট এইগুলিই ছিল সেকালের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী, জঙ্গি ও অনন্য-সাধারণ ধর্মঘটগুলির কয়েকটি।
কংগ্রেস সংগঠনের আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব শ্রমিকশ্রেণির এই সংগ্রামের প্রতি হয় প্রকাশ্যভাবে বিরূপমনোভাবাপন্ন ছিল অথবা সরকারের পক্ষ থেকে যখন সেগুলি দমন করা হতো তখন তারা সম্পূর্ণ উদাসীন থাকত। ভারতের উঠতি পুঁজিপতি শ্রেণির স্বার্থের প্রতিভূ হিসেবে এরা শ্রমিকদের যে-কোনও শ্রেণিসুলভ কার্যকলাপকে অপছন্দ করত। বোম্বাইয়ের সুতাকল-ধর্মঘট ভারতের সুতাকল মালিকদের স্বার্থের সরাসরি বিঘ্ন সৃষ্টি করায় এবং এই মালিকদেরই কতিপয় আবার কংগ্রেসের আর্থিক পৃষ্ঠপোষক হওয়ায় এরা এই ধর্মঘটের বিরুদ্ধে খোলাখুলি সুনির্দিষ্টভাবে বৈরিতা দেখিয়েছিল।
শ্রমিকশ্রেণির এই সমস্ত নতুন ধরনের সংগ্রাম যে সাম্রাজ্যবাদী শোষণেরই ফলশ্রুতি এবং ব্রিটিশ সরকারের অনুসৃত নীতির বিরুদ্ধেই যে এই শ্রমিকরা সংগ্রামে প্রবৃত্ত, জাতীয় নেতৃত্ব সেই কথাটাই স্বীকার করতে অসম্মত ছিল। সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে যাওযার প্রয়োজনে শ্রমিকশ্রেণিকে প্রস্তুত করে তুলতে এরা অস্বীকার করত এবং এভাবেই তারা এই প্রাণবন্ত শ্রেণির বৈপ্লবিক শক্তির অপচয় ঘটাত।
কিন্তু, ক্রম-প্রসারিত এই ধর্মঘট-সংগ্রামগুলির বিপুল তাৎপর্যের বিষয়টি উপলব্ধি করে সেগুলি সংগঠিত করার প্রচেষ্টাকে তীব্রতর করতে এবং সেই সমস্ত সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী সংগ্রামের একটি শক্তিশালী বাহু হিসেবে শ্রমিকদের গড়ে তুলতে কমিউনিস্টরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। বোম্বাই, কলকাতা, মাদ্রাজ এবং অন্যান্য শিল্পকেন্দ্রে এই ধর্মঘট-তরঙ্গের উত্থান পরিলক্ষিত হয়েছিল। এরকম বহু সংখ্যক সংগ্রামে বাম জাতীয়তাবাদীদের পাশাপাশি কমিউনিস্টরা পার্টি হিসেবে অথবা ব্যক্তিগতভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছিল। এই বিপুল অভ্যুত্থানকে কংগ্রেস নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে অবহেলা করা হয়েছিল। তথাপি, সেই অভ্যুত্থানের বিপুলতা ধারণা করা যেতে পারে সামান্য কিছু তথ্য থেকেই। ১৯২৮ সালে ধর্মঘটে অংশগ্রহণকারী মেহনতী মানুষের সংখ্যা ৫ লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছিল এবং ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমদিবসের সংখ্যা গিয়ে ঠেকেছিল ৩ কোটি ১০ লক্ষে। পরের বছর অংশগ্রহণকারী ধর্মঘটী শ্রমিকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছিল ৫ লক্ষ ৩২ হাজার এবং ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমদিবসের সংখ্যা হয় ১ কোটি ২০ লক্ষ। আর এই দু বছর ধরে কংগ্রেস শুধু ডমিনিয়ন স্ট্যাটাসের কথাই বলে চলেছিল। অথচ এর মাত্র এক বছর পরেই ১৯৩০-এর সংগ্রাম শুরু হয়েছিল। জনগণের অন্যান্য অংশ সংগ্রামে নেমে পড়ার আগেই শ্রমিকশ্রেণিকে ধ্বংস করে দিতে সরকার তখন বদ্ধপরিকর।
ক্রম-প্রসারিত এই সংগ্রামের কেন্দ্রস্থল ছিল বোম্বাই। এখানেই ছিল সেইসব কমিউনিস্ট গ্রুপ যাদের সকলেরই পরবর্তীকালে মিরাট ষড়যন্ত্র মামলায় বিচার হয়েছিল এবং যারা তৎকালে পুরনো সংস্কারবাদী নেতাদের অপসারিত করে ক্রমে ক্রমে হাজার হাজার শ্রমিকের কাছে বরেণ্য ও স্বীকৃত নেতা হয়ে উঠেছিল। গিরনি কামগড় ইউনিয়নের মতো একটি জঙ্গি সংগঠন কমিউনিস্টরাই তৈরি করে। মাত্র ৩২৪ জন সদস্য নিয়ে ১৯২৮ সালে যার শুরু, সেই বছরেরই ডিসেম্বর মাসে তার সদস্য সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছিল ৫৪ হাজার। আর ১৯২৯ সালের প্রথম তিন মাসে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছিল সাড়ে ৬৫ হাজার।
বিশাল বিশাল ইউনিয়ন গঠনে কমিউনিস্টরা সফল হয়েছিল। তারা অসংখ্য ধর্মঘটের নেতৃত্ব দিয়েছিল, প্রজাতন্ত্র গঠন এবং শ্রমিক ও কৃষকের সরকার গড়ে তোলার সপক্ষে বক্তব্য রেখে তারা দেশের পূর্ণ স্বাধীনতার জন্য প্রচার করেছিল। জনগণের সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী সংগ্রামকে শক্তিশালী করে তোলার জন্যে তারা বড় বড় সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী প্রতিবাদ ও ধর্মঘট সংগঠিত করেছিল। যেদিন সাইমন কমিশন এসে বোম্বাই বন্দরে পদার্পণ করেছিল, সেদিন বোম্বাই শহরে অনুষ্ঠিত শ্রমিকদের যে পূর্ণ ধর্মঘটে রেলওয়ে, সুতাকল ও পৌরসভার শ্রমিকেরা অংশগ্রহণ করেছিল সেই ধর্মঘট জাতীয় কংগ্রেসের আহ্বানে কমিশন বর্জনের জন্য বিপুলাকার জাতীয় আন্দোলনেরই অংশ হয়ে উঠেছিল। এক নতুন সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী চেতনা শ্রমিকদের মন কেড়ে নিয়েছিল এবং তারা এমন এক স্বতন্ত্র-নেতৃত্বে সমবেত হচ্ছিল, যে নেতৃত্ব মতাদর্শগত ব্যাপারে জাতীয় বুর্জোয়া নেতৃত্বের মুখাপেক্ষী ছিল না। অনুরূপ সাফল্য কিছু পরিমাণে কলকাতা ও অন্যান্য কয়েকটি শিল্প শহরেও অর্জন করা গিয়েছিল। বোম্বাইয়ের মতো একইভাবে অর্থাৎ শ্রমিকশ্রেণির ধর্মঘট পরিচালনার মধ্য দিয়েই কলকাতাতেও কমিউনিস্ট নেতৃত্বের অবির্ভাব ঘটেছিল।
বোম্বাই ও অন্যত্র কমিউনিস্টদের যে সাফল্য তার কারণ ছিল জনগণের উপর তাদের আস্থা ও নির্ভরশীলতা। কমিউনিস্টরা যে শুধু জঙ্গি নেতার যোগান দিয়েছিল তা নয়, অত্যন্ত গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধর্মঘট পরিচালনার জন্য নতুন সাংগঠনিক ধরন গড়ে তোলাতেও তাদের অবদান ছিল। সাধারণ কর্মীদের মধ্যে থেকে নেতৃত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে কমিউনিস্টরা ব্যাপক ভিত্তিতে নির্বাচিত ধর্মঘট-কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছিল এবং সেইমতো তা গড়েও তুলেছিল। একই সঙ্গে ওই ধর্মঘট-কমিটিগুলি যাতে সংগ্রাম পরিচালনার প্রকৃত সংগঠন হিসাবে কাজ করতে পারে সেই ব্যবস্থাও সুনিশ্চিত করেছিল। সচেতন ও জঙ্গি কর্মীদের নেতৃত্বে মিল-কমিটিগুলির পরিচালনাকে ভিত্তি করেই তারা ইউনিয়ন গড়ে তুলেছিল।
আতঙ্কে আগাম দমন-পীড়ন
এই সমস্ত ঘটনাবলী মালিকপক্ষ এবং সাম্রাজ্যবাদীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির পক্ষে যথেষ্ট ছিল। সাম্রাজ্যবাদীরা তো এক পর্যায়ে মিল-কমিটির গঠন ও সোভিয়েত গঠনকে সমতুল্য জ্ঞান করত। দেওয়ালের এই লিখনটি সাম্রাজ্যবাদীদের নজরে পড়েছিল। তারা জানত, কমিউনিস্টরা তখনও সারা ভারতে ছড়িয়ে পড়তে পারেনি, যদিও বা রেলওয়ে ইউনিয়নসহ বড় বড় ও শক্তিশালী ইউনিয়নগুলির উপর এদের প্রচুর প্রভাব।
কমিউনিস্টদের সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী আবেদনে শ্রমিকশ্রেণির কাছ থেকে যে সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল তাতেই তারা ভীত হয়ে পড়ে। মে দিবস উদযাপন শ্রমিকদের অগ্রগামী অংশের খুব দ্রুতগতিতে সমবেত হওয়ার একটা ক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল। অতএব, বছরখানেক বাদেই জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে যে জাতীয় প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে উঠবার কথা তারই সঙ্গে শ্রমিকশ্রেণির আন্দোলনের মিলনকে ঠেকানোর জন্য ব্রিটিশ সরকার শ্রমিকশ্রেণির উপর আঘাত হানার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল।
সরকারের পক্ষ থেকে প্রথম আক্রমণ ঘটল ১৯২৯ সালের মার্চ মাসে। ওই সময়ে সমস্ত সুপরিচিত কমিউনিস্ট নেতা সহ ট্রেড ইউনিয়ন, কৃষক ও যুব নেতাদের ৩১ জনকে মিরাট ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে ব্রিটিশরাজ উচ্ছেদের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছিল। শ্রমিক, কৃষক এবং যুবকদের মধ্যে যে সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী রাজনৈতিক কার্যকলাপ তারা চালিয়েছিল এটা অবশ্য তারই পরোক্ষ পুরস্কার ছিল।
ধর্মঘট সংগ্রামের বৃদ্ধির সঙ্গে জড়িত যে সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী অভ্যুত্থান তাকে ঠেকানোর জন্য অন্যান্য দমনপীড়নের ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছিল। ভারতে কমিউনিস্ট কার্যকলাপকে খর্ব করার উদ্দেশ্যে ১৯২৮ সালে সরকার এক ‘জন-নিরাপত্তা বিল’ পেশ করেছিল। ১৯২৯ সালে আইনসভায় বিলটি প্রত্যাখ্যাত হলো বটে, কিন্তু পরে এটাই বিশেষ জরুরি অর্ডিন্যান্স হিসেবে জারি করা হয়েছিল। সালিশী ব্যবস্থার প্রবর্তন, সহানুভূতিসূচক ধর্মঘট নিষিদ্ধকরণ ও অত্যাবশ্যকীয় সংস্থায় ধর্মঘটের অধিকার সীমিতকরণের উদ্দেশ্যে এক ‘শিল্প-বিরোধ আইন’ পাস করা হয়েছিল। ঘটনাবলীর অগ্রগতি কমিউনিস্টদের নেতৃত্বে সমস্ত শিল্প জুড়ে জাতীয় সংগ্রামের প্রতি সমর্থনে এক সাধারণ ধর্মঘটের দিকে যে মোড় নিতে চলেছিল, তা বুঝতে পেরেই এই প্রচেষ্টা। কমিউনিস্ট পার্টি শ্রমিকদের মধ্যে তাদের ধ্যান-ধারণাগুলির প্রচার চালিয়ে যাচ্ছিল এবং তার ফলে ট্রেড ইউনিয়নগুলি, বিশেষ করে রেলওয়ে ইউনিয়নগুলির মধ্যে তার প্রভাবের যে বৃদ্ধি ঘটছিল সেই ব্যাপারটা সরকারি মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছিল।
মিরাটে ব্রিটিশ সরকার অন্যান্য অসাধু উপায়ও অবলম্বন করেছিল। মামলার গ্রেপ্তারের প্রাক্কালে, ১৯২৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে, বোম্বাইতে এক অভূত-পূর্ব সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বেধে গেল। এই ঘটনায় সরকারের যে হাত ছিল সেটা কমিউনিস্ট নেতারা ফাঁস করে দিয়েছিল। মাসের পর মাস ধরে সাধারণ সংগ্রামের মাধ্যমে হিন্দু ও মুসলিম শ্রমিকদের যে ঐক্য গড়ে উঠেছিল তাকে ভেঙে ফেলাই ছিল এর উদ্দেশ্য। কমিউনিস্ট নেতারা চেষ্টা করেছিলেন যাতে এই কু-মতলবটির মুখোশ খুলে দেওয়া যায় এবং তার প্রতিক্রিয়াকে সীমিত করা যায়। কিন্তু ব্রিটিশ সরকার কমিউনিস্টদের আক্রমণ করার উদ্দেশ্যেই এই দাঙ্গাকে ব্যবহার করেছিল এবং তাদের বিরুদ্ধে আরও দমন-পীড়নের ব্যবস্থা গ্রহণের সপক্ষেই ওকালতি করেছিল। সরকার কর্তৃক নিযুক্ত বোম্বাই দাঙ্গা তদন্ত কমিটি সুপারিশ করেছিল যে, “বোম্বাইয়ে কমিউনিস্ট কার্যকলাপের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করাই সরকারের উচিত।” সেই তদন্ত কমিটি এই প্রশ্নও তুলেছিল যে, “রেজিস্টার্ড ইউনিয়নের ব্যবস্থাপনা থেকে কমিউনিস্টদের বাদ দেওয়ার” মর্মে একটি সংশোধন ট্রেড ইউনিয়ন অ্যাক্ট-এ কেনই বা আনা উচিত হবে না।
১৯২৯ সালে নাগপুরে অনুষ্ঠিত সারা ভারত ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস (এআইটিইউসি)-এর অধিবেশনকালে সরকার-ঘেঁষা ট্রেড ইউনিয়ন নেতাদের পক্ষ থেকে আর এক-দফা আঘাত হানা হয়েছিল। শ্রমিক আন্দোলনকে বেকুব বানানোর মতলবে গঠিত এবং জাতীয় রাজনৈতিক সংগ্রাম থেকে শ্রমিকদের তফাতে রাখতে নরমপন্থী নেতাদের হাতে যেটা একটা হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারত, সেই হুইটলি কমিশন (শ্রম সম্পর্কীয় রাজ-কমিশন) ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস কর্তৃক প্রত্যাখ্যানের মধ্য দিয়ে শ্রমিকশ্রেণির এক নতুন ধরনের মেজাজের অভিব্যক্তি দেখা গিয়েছিল। কয়েকটি সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী প্রস্তাবের সঙ্গে সাইমন কমিশন বর্জনের সপক্ষে একটি প্রস্তাবও ঐ অধিবেশনে পাস করা হয়েছিল। হজম করার পক্ষে সরকার-ঘেঁষা গোষ্ঠীর নেতৃত্বের কাছে ঐগুলি খুবই বেশি হয়ে গিয়েছিল। তারা এআইটিইউসি-র সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে নতুন আর এক সংগঠন তৈরি করল এবং এইভাবে বিভেদের সৃষ্টি করল। ব্রিটিশ সরকার কিন্তু তড়িঘড়ি করে এই বিচ্ছিন্ন অংশটিকেই ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের প্রকৃত প্রতিনিধি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে দিল।
মিরাট মামলাকে টেনে হিঁচড়ে বছরের পর বছর ধরে চালানো হলো এবং এক বর্বর শাস্তিদানের মধ্য দিয়ে তার সমাপ্তি ঘটল। মুজফ্ফর আহমদকে যাবজ্জীবন নির্বাসন দণ্ডে দণ্ডিত করা হলো এবং অন্যান্য কয়েকজনের বারো বছর করে কারাদণ্ড হলো। পরবর্তীকালে হাইকোর্ট কর্তৃক অবশ্য এইসব শাস্তি হ্রাস করা হয়েছিল।
এই ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সকলেই কমিউনিস্ট ছিল না। এদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক সংখ্যক আদালতকে বলেছিল যে, ভারতের স্বাধীনতার জন্য যদিও তারা শ্রমিক, কৃষক ও যুবকদের মধ্যে কাজ করছিল তবে তারা কেউ কমিউনিস্ট নয়।
আদালতের সামনে কমিউনিস্টদের আচরণ কিন্তু তাদের মার্কসবাদী-লেনিনবাদী নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল। কমিউনিস্ট দৃষ্টিভঙ্গি এবং জাতীয় মুক্তির জন্য সংগ্রামের প্রতি তাদের গভীর আকর্ষণ সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারের জন্য তারা আদালতের মঞ্চটিকে ব্যবহার করেছিল। সাম্রাজ্যবাদী ও ভারতীয় কায়েমী স্বার্থবাদীদের কমিউনিস্ট-বিরোধী প্রচারকে খণ্ডন করে তারা অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেছিল। কমিউনিস্টরা আদালতের সামনে একের পর এক উঠে দাঁড়িয়ে এ কথাই বলেছিল যে, দেশের মুক্তির জন্য ও তাকে সমাজতন্ত্রের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিপ্লব সংগঠিত করার যে অধিকার, তা তাদের সহজাত অধিকার।
কমিউনিস্ট নেতৃত্বে পরিচালিত শ্রমিকশ্রেণির নিজস্ব আন্দোলন যাতে জাতীয় সংগ্রামের মূল প্রবাহের সঙ্গে যুক্ত হতে না পারে এই মতলবে তাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক আক্রমণই ছিল এই মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা। কিন্তু এই আক্রমণ এখানেই থেমে থাকলো না। সমগ্র ১৯২৯ সাল জুড়ে একের পর এক ধর্মঘটগুলিকে নির্মমভাবে দমন করা হলো, সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী প্রতিরোধে জাগ্রত ঘাঁটিগুলিকে একের পর এক উৎখাত করা হলো। এই উদ্দেশ্যে শ্রমিকশ্রেণির প্রকৃত নেতৃত্ব চলা ইউনিয়নগুলি যে-সকল মিল কমিটিগুলির প্রতিনিধিত্ব করত সেগুলিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার এক নীতি শ্রমিকদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ১৯২৯ সালে বোম্বাই সুতাকল ধর্মঘটকে যে চূর্ণ বিচূর্ণ করে দেওয়া হয়েছিল, সেটা ছিল বৃহত্তম আঘাত। এরই ফলশ্রুতি হিসেবে গিরনি কামগড় ইউনিয়ন বিধ্বস্ত হয়ে গেল এবং তা চলে গেল কমিউনিস্ট-বিরোধীদের দখলে।
১৯৩৩ সালের সংগ্রামের সময়ে কমিউনিস্টদের একটা সংকটজনক কালের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল। এই সংগ্রাম যে সময়ে শুরু হয়েছিল তখন ইতোমধ্যেই অধিকাংশ গণসংগঠন দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং তাদের নতুনভাবে গড়ে তোলার প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল। তাছাড়া, মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা শুরু হওয়ার পর এই গণ-সংগঠনগুলিকে কতিপয় গ্রেপ্তারের ঘটনার সম্মুখীন হতে হয় এবং তার ফলে বহু নেতা কর্মক্ষেত্র থেকে সরে যায়। এই সমস্ত ঘটনায় জাতীয় বুর্জোয়াদের ভূমিকা সম্পর্কে বেঠিক ধারণা থেকে উৎসারিত যে ভুল, তা যুক্ত হয়ে এমন একটা অবস্থার সৃষ্টি করল যে, সাম্রাজ্যবাদ- বিরোধী সুদৃঢ় শক্তি হিসেবে শ্রমিকশ্রেণিকে গড়ে তোলার এত বীরত্বপূর্ণ সংগ্রাম সত্ত্বেও কমিউনিস্টরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল। কংগ্রেস নেতৃবর্গ, রায়-পন্থী এবং অন্যরা এই দুর্বলতার সুযোগ পূর্ণরূপে গ্রহণ করল এবং কমিউনিস্টদের ভুলকে অতিরঞ্জিত করে দেখিয়ে তাদের নামে জঘন্যতম কালিমা লেপন করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করল।
কিন্তু বহু সংখ্যক কমিউনিস্ট নেতাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া এবং শ্রমিকশ্রেণির মধ্যে সৃষ্টি হওয়া বিক্ষোভের নতুন তরঙ্গ দেখিয়ে দিয়েছিল যে, কমিউনিস্টরা তাদের গণআবেদন ক্রমাগত বজায় রাখে চলছিল; যদিও বা সেটা ছিল কিছুটা দুর্বল চেহারায়। কংগ্রেসের সংগ্রাম তখন শেষ হয়ে গিয়েছিল, তাদের গণ-আন্দোলন বন্ধ হওয়ার মুখে দাঁড়িয়েছিল। কংগ্রেসের নেতারা ছিল ঠিকই, কিন্তু লড়াই করার কোন পরিকল্পনা তাদের ছিল না। ১৯৩৩ সালে শ্রমিকশ্রেণির উত্থান শুরু হতে থাকে এবং ১৯৩৪ সালে, সুতাকলগুলি একটা সর্বভারতীয় ধর্মঘট করে; অন্যান্য ট্রেড ইউনিয়নের সহায়তায় কমিউনিস্টরা এই ধর্মঘট সংগঠিত করতে সফল হয়েছিল। শিল্পক্ষেত্রে এই ধরনের সর্বভারতীয় কর্মসূচি সেই-ই প্রথম এবং এই কর্মসূচি বহুলাংশে ভূমিকা পালন করেছিল। নানান দাবির মধ্যে এই ধর্মঘটের অন্যতম দাবি ছিল রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তিদান। এই দাবির প্রধান প্রসঙ্গ ছিল আন্দামান ও অন্যত্র আটক জাতীয়তাবাদী বিপ্লবীদের মুক্তিদান।
তবে কমিউনিস্টদের উপর দমন-পীড়নের আঘাত আবারও নেমে আসে। বোম্বাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের আটক করা হয় এবং তাদের মধ্যে অনেকেই শহর থেকে বহিষ্কারও করা হয়; অন্যদিকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে বাকিদের দুবছরের কারাদন্ডের শাস্তি দেওয়া হয়। সে সময় কমিউনিস্ট পার্টিকে নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তার সঙ্গে সঙ্গে যে সমস্ত সুতাকল ইউনিয়নে তারা নেতৃত্ব দিত, সেগুলিকেও নিষিদ্ধ করা হয়; নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় ‘ইয়ং ওয়াকার্স লিগ’ ও ‘আন এমপ্লয়েড লিগ’ সংগঠন দুটি এবং মার্কসবাদী প্রকাশনার সংগঠনগুলির উপরেও।
প্রকাশ: ০২-আগস্ট-২০২৬
শেষ এডিট:: 31-Jul-26 11:51 | by 2
Permalink: https://cpimwestbengal.org/role-of-communists-in-indias-freedom-struggle-part-–-iii
Categories: Fact & Figures
Tags:
বিভাগ / Categories
- Booklets - পুস্তিকা (4)
- Campaigns & Struggle - প্রচার ও আন্দোলন (172)
- Corporation Election - পৌরসভা নির্বাচন (6)
- Current Affairs - সাম্প্রতিক ঘটনাবলী (155)
- External Links - প্রাসঙ্গিক লিংক (4)
- Fact & Figures - তথ্য ও পরিসংখ্যান (82)
- Highlight - হাইলাইট (97)
- International - আন্তর্জাতিক (3)
- Party Documents - পার্টি পুস্তিকা (3)
- People-State - জনগণ-রাজ্য (6)
- Press Release - প্রেস বিজ্ঞপ্তি (155)
- Programme - কার্যক্রম (1)
- Truth Beneath - তথ্য (18)
- Uncategorized - অশ্রেণীভুক্ত (339)

