|
হিন্দুত্ববাদী অর্থনীতিতে হিন্দুদের কী লাভ? (তৃতীয় পর্ব)Samik Lahiri |
কর্পোরেটদের ছাড়: ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কর্পোরেট ট্যাক্স এক ধাক্কায় ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২২ শতাংশ করার ফলে সরকারের বছরে প্রায় ১.৪৫ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়। ঠিক তার পরের বছরই অর্থাৎ ২০২০ সালের মার্চ ও মে মাসে করোনা মহামারীর লকডাউনের মধ্যে যখন সাধারণ মানুষের রোজগার বন্ধ, তখন সরকার পেট্রোল ও ডিজেলে লিটার প্রতি যথাক্রমে ১৩ টাকা ও ১৬ টাকা আবগারি শুল্ক বাড়িয়ে দেয়। এই বাড়তি শুল্ক থেকে সরকারের অতিরিক্ত আয় হয় প্রায় ১.৬ লাখ কোটি। |
শিক্ষা খাতের বেহাল দশা বাজেটে করুণ বরাদ্দ - আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী শিক্ষা খাতে জিডিপির (GDP) অন্তত ৬ শতাংশ বরাদ্দ হওয়া উচিত। কিন্তু ২০২৩-২৪ এবং ২০২৪-২৫ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে দেখা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রকের জন্য মোট বরাদ্দ ছিল জিডিপির মাত্র ২.৮ শতাংশ থেকে ২.৯ শতাংশ। এটি বিশ্বের বহু উন্নয়নশীল দেশের তুলনাতেও অনেক কম।
২. পরিসংখ্যানের চোখে স্বাস্থ্য
খাত (Sector) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড / দীর্ঘদিনের দাবি বর্তমান মোদি সরকারের বরাদ্দ (জিডিপির % হিসেবে) সাধারণ মানুষের ওপর এর প্রভাব শিক্ষা (Education) ন্যূনতম ৬ শতাংশ (কোঠারি কমিশন) ২.৮ - ২.৯ শতাংশ সরকারি স্কুল বন্ধ, উচ্চশিক্ষার চড়া ফি এবং লাগামহীন বাণিজ্যিকীকরণ। স্বাস্থ্য (Healthcare) ন্যূনতম ২.৫ – ৩ শতাংশ (WHO) ১.২ - ১.৩ শতাংশ পকেট থেকে বিপুল খরচ (৪৮শতাংশ), গ্রামীণ হাসপাতালে ডাক্তারের ঘাটতি ৮০ শতাংশ। কর্পোরেট ছাড় (Corporate Tax) করের হার বাড়ানো বা বজায় রাখা ৩০% থেকে কমিয়ে ২২% করা পুঁজিপতিদের বছরে প্রায় ১.৪৫ লক্ষ কোটি টাকার কর মকুব। ৫. কর কাঠামোর বৈষম্য একটি সঠিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ধনীদের ওপর বেশি কর (Direct Tax) এবং গরিবদের ওপর কম কর চাপানো হয়। কিন্তু বর্তমান মডেলে এর উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। ২০১৯ সালে সরকার এক ধাক্কায় কর্পোরেট ট্যাক্স ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২২ শতাংশ এবং নতুন কোম্পানির জন্য ১৫ শতাংশ করে দেয়। এর ফলে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হয় প্রায় ১.৪৫ লক্ষ কোটি টাকা। যুক্তি দেওয়া হয়েছিল এতে বিনিয়োগ বাড়বে, কিন্তু বাস্তবে সেই টাকা পুঁজিপতিরা নিজেদের ঋণ শোধ বা লভ্যাংশ হিসেবে পকেটে পুরেছে, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়নি। এই রাজস্ব ঘাটতি মেটাতে সরকার পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর রেকর্ড পরিমাণ আবগারি শুল্ক (Excise Duty) বসিয়েছে। জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে পরিবহন খরচ বাড়ে এবং তার ফলে আলু, পেঁয়াজ থেকে শুরু করে ওষুধের দাম আকাশছোঁয়া হয়। গরিব ও মধ্যবিত্তের পকেট সরাসরি কাটা যাচ্ছে। আবগারি শুল্ক বৃদ্ধির অবিশ্বাস্য চেহারাটি কিরকম? ক) আন্তর্জাতিক বাজারের বিপরীত নীতি: আন্তর্জাতিক বাজারে যখন অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম রেকর্ড পরিমাণ কম ছিল, তখন ভারত সরকার সেই সুফল সাধারণ মানুষকে না দিয়ে নিজের আবগারি শুল্ক বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ২০১৪ সালের মে মাসে কেন্দ্রে যখন নতুন সরকার আসে, তখন প্রতি লিটার পেট্রোলে কেন্দ্রীয় আবগারি শুল্ক ছিল মাত্র ৯.৪৮ টাকা। ২০২০ সালের মে মাসের মধ্যে তা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে করা হয় ৩২.৯৮ টাকা। অর্থাৎ, শুল্ক বৃদ্ধির হার ছিল প্রায় ২৪৮ শতাংশ। ২০১৪ সালের মে মাসে প্রতি লিটার ডিজেলে কেন্দ্রীয় আবগারি শুল্ক ছিল মাত্র ৩.৫৬ টাকা। ২০২০ সালের মে মাসে তা নজিরবিহীনভাবে বাড়িয়ে করা হয় ৩১.৮৩ টাকা। অর্থাৎ, শুল্ক বৃদ্ধির হার ছিল প্রায় ৭৯৪ শতাংশ! খ) তেল থেকে সরকারের আয়: কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের অধীনস্থ ‘পেট্রোলিয়াম প্ল্যানিং অ্যান্ড অ্যানালিসিস সেল’ (PPAC)-এর তথ্য অনুযায়ী, তেল থেকে সরকারের আয় যেভাবে আকাশছোঁয়া হয়েছে তা নিম্নরূপ: কেন্দ্রীয় আবগারি শুল্ক সংগ্রহের পরিমাণ: অর্থবছর (Financial Year) মোট সংগ্রহ (কোটি টাকায়) মন্তব্য / স্থিতি ২০১৪-১৫ ১,০৫,৬৫১ কোটি টাকা (প্রকৃত সংগ্রহ/Actuals) ২০২০-২১ ৩,৭২,৯৭০ কোটি টাকা (মহামারীর বছর) ২০২২-২৩ ৪,০০,০০০ কোটি টাকারও বেশি (মোট পেট্রো পণ্যের করসহ) ২০২৩-২৪ ৩,০৫,০০০ কোটি টাকা (প্রকৃত সংগ্রহ/Actuals) ২০২৪-২৫ ৩,০০,০০০ কোটি টাকা (চূড়ান্ত নয়/Provisional Actuals) বিগত এক দশকে কেন্দ্র সরকার কেবল পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর কর চাপিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট থেকে প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব হিসেবে তুলেছে। গ) কর্পোরেট করের ক্ষতি বনাম তেলের করের মেক-আপ কীভাবে কয়রা হয়েছে? এখানেই হিন্দুত্ববাদী অর্থনীতির আসল স্ববিরোধিতা ধরা পড়ে, যা পরিসংখ্যান দিয়ে অর্থনীতিবিদরা প্রমাণ করেছেন।
কর্পোরেটদের ছাড়: ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কর্পোরেট ট্যাক্স এক ধাক্কায় ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২২ শতাংশ করার ফলে সরকারের বছরে প্রায় ১.৪৫ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়। ঠিক তার পরের বছরই অর্থাৎ ২০২০ সালের মার্চ ও মে মাসে করোনা মহামারীর লকডাউনের মধ্যে যখন সাধারণ মানুষের রোজগার বন্ধ, তখন সরকার পেট্রোল ও ডিজেলে লিটার প্রতি যথাক্রমে ১৩ টাকা ও ১৬ টাকা আবগারি শুল্ক বাড়িয়ে দেয়। এই বাড়তি শুল্ক থেকে সরকারের অতিরিক্ত আয় হয় প্রায় ১.৬ লাখ কোটি। এই দুটি ঘটনার সময়কাল এবং আর্থিক পরিমাণ কোনো কাকতালীয় বিষয় ছিল না। গাণিতিক এবং নীতিগতভাবে সমীকরণটি ছিল ঠিক এইরকম - কর্পোরেট কর হ্রাস (ক্ষতি) = প্রায় ১.৪৫ লক্ষ কোটি টাকা আর তেলের শুল্ক বৃদ্ধি অর্থাৎ আমজনতার ওপর বোঝা ১.৬০ লক্ষ কোটি টাকা। অর্থাৎ, দেশের শীর্ষ ধনী ও কর্পোরেটদের যে ১.৪৫ লাখ কোটি টাকার কর মকুব করা হয়েছিল, তা হুবহু উসুল করা হলো সাধারণ মধ্যবিত্ত ও গরিবের মোটরসাইকেল, গাড়ি আর চাষীর ডিজেল চালিত পাম্পের ওপর কর বসিয়ে। কর্পোরেটদের দেওয়া এই কর ছাড়ের ক্ষতিপূরণ করতে সাধারণ মানুষের পকেট থেকে 'তেলের ট্যাক্স' হিসেবে সেই টাকা উসুল করে নেওয়া হয়েছিল, যা দেশের অর্থনৈতিক বৈষম্যকে আরও তীব্র করে তোলে। এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক কুফল - ডিজেল হলো ভারতীয় পরিবহণ ব্যবস্থার লাইফলাইন। ডিজেলে রেকর্ড শুল্ক বসানোর ফলে ট্রাক ও মালবাহী গাড়ির ভাড়া এক ধাক্কায় বহুগুণ বেড়ে যায়।এর ফলে চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ থেকে শুরু করে ভোজ্য তেল, জীবনদায়ী ওষুধের দাম আমজনতার নাগালের বাইরে চলে যায়। বিশ্বের খুব কম গণতান্ত্রিক দেশে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কম থাকার পরও, দেশের ভেতরে করের বোঝা বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে এমন চরম সংকটে ফেলার নজির রয়েছে। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে, এই অর্থনীতিতে কার স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। ঠিক একই চেহারা গ্যাসের দামের ক্ষেত্রে দেখতে পাওয়া যায়। ২০১৪ সালের মে মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে ১ মেট্রিক টন এলপিজি (LPG)-এর দাম ছিল প্রায় ৮১০–৮২৫ মার্কিন ডলার। সেই সময়ে দেশে ১৪.২ কেজির ভর্তুকিযুক্ত গৃহস্থালি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ছিল ৪১৪ টাকা। আর ভর্তুকিহীন ১৪.২ কেজির গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৯০০–১,২০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করত। তখন গরিব, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের সুবিধার জন্য গ্যাসে ভর্তুকি দেওয়া হতো। ২০১৪ সালে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম কলকাতায় ছিল ১৩৪৮.৫০ টাকা, আর ২০২৬ সালে তার দাম হয়েছে ৩,২০২ টাকা। ২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে LPG-এর দাম প্রায় ৫৫০–৬৫০ মার্কিন ডলারের মধ্যে ওঠানামা করছে। অথচ কলকাতায় ১৪.২ কেজির গৃহস্থালি সিলিন্ডারের দাম প্রায় ₹৯৬০। আন্তর্জাতিক বাজারে LPG-এর দাম প্রতি মেট্রিক টনে প্রায় ১৭৫–২৬০ ডলার কমা সত্ত্বেও দেশে গ্যাসের দাম এত বেশি কেন? এই প্রশ্ন তোলা কি অস্বাভাবিক? কী উত্তর দেবেন হিন্দুবাদীরা? ৬. কৃষি সংকট ও গ্রামীণ ভারতের দুর্দশা - হিন্দুত্ববাদী অর্থনীতি মূলত শহরকেন্দ্রিক এবং কর্পোরেট-বান্ধব। দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ এখনো কৃষির ওপর নির্ভরশীল, অথচ কৃষি ক্ষেত্রই চরম অবহেলার শিকার। ২০২২ সালের মধ্যে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, production খরচ (উৎপাদন খরচ) বহুগুণ বেড়ে গেছে, সার, বীজ, ডিজেলের দাম বৃদ্ধির কারণে। কিন্তু ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (MSP) আজও আইনি গ্যারান্টি পায়নি। গ্রামীণ মজুরি হ্রাস: মূল্যস্ফীতি বা ইনফ্লেশনের তুলনায় গ্রামীণ প্রকৃত মজুরি (Real Wages) গত কয়েক বছরে হয় থমকে গেছে অথবা কমে গেছে। ফলে গ্রামীণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে, যা সামগ্রিক দেশের অর্থনীতিতে মন্দার সৃষ্টি করছে।
১. চাহিদা বনাম জোগানের সংকট - পুঁজিপতিদের কর ছাড় দিলে বাজারে ‘জোগান’ (Supply) বাড়ে, কিন্তু বাজারে যদি সাধারণ মানুষের কেনার ক্ষমতাই না থাকে, তবে সেই জোগানের কোনো মূল্য নেই। ভারতের সাধারণ মানুষের অর্থাৎ নিচের ৯০ শতাংশ মানুষের আয় না বাড়ায় বাজারে সাবান, তেল, জামাকাপড়, বিস্কুটের মতো সাধারণ জিনিসের চাহিদা কমছে। ফলে অর্থনীতি এক স্থবিরতার দিকে যাচ্ছে। ২. মানবসম্পদ উন্নয়নে অবহেলা - এই হিন্দুত্ববাদী মডেলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বাজেট ক্রমাগত কমানো হচ্ছে। জিডিপির মাত্র ১-২ শতাংশ শিক্ষার জন্য ব্যয় করা হয়। এর ফলে মধ্যবিত্ত ও গরিব পরিবারগুলোকে বেসরকারি স্কুল ও হাসপাতালের চড়া ফি দিতে গিয়ে ঋণগ্রস্ত হতে হচ্ছে। ৩. আবেগের আফিম বনাম অর্থনৈতিক বঞ্চনা - যখনই বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি বা অর্থনৈতিক মন্দা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তখনই ধর্মীয় মেরুকরণ বা ভারত-পাকিস্তান বিতর্ককে সামনে আনা হয়। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বা অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করেছেন যে, সামাজিক বিভাজন এবং ঘৃণা কখনো সুস্থ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এনে দিতে পারে না। বিকল্পের সন্ধান পরিশেষে বলা যায়, হিন্দুত্ববাদী অর্থনীতি কোনো কল্যাণকামী রাষ্ট্রের মডেল নয়। এটি মূলত নব্য-উদারবাদী পুঁজিবাদের এমন এক উগ্র সংস্করণ, যা ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের মোড়কে মোড়ানো। এই নীতি মুষ্টিমেয় কয়েকজন ‘ক্রোনি’ বা সুবিধাভোগী শিল্পপতিকে বিশ্বমঞ্চের শীর্ষ ধনীতে পরিণত করেছে ঠিকই, কিন্তু তার মূল্য চুকাতে হচ্ছে ভারতের কোটি কোটি সাধারণ মানুষকে। মধ্যবিত্ত তার সঞ্চয় হারিয়ে নিম্ন-মধ্যবিত্তে পরিণত হচ্ছে এবং গরিব মানুষ আরও গভীরে তলিয়ে যাচ্ছে দারিদ্র্যের অন্ধকারে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের ভেতরের সামাজিক অসন্তোষ ও অর্থনৈতিক বৈষম্য এমন এক বিস্ফোরক পর্যায়ে পৌঁছাবে, যা কেবল কোনো ধর্মীয় বা রাজনৈতিক বয়ান দিয়ে ঢেকে রাখা সম্ভব হবে না। ভারতের প্রয়োজন এখন একটি 'জনমুখী অর্থনীতি', যেখানে পুঁজির একচেটিয়া অধিকার খর্ব করে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক সমতার ওপর জোর দেওয়া হবে। প্রকাশের তারিখ: ২০-জুন-২০২৬ |
© কপিরাইট ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি
|