|
আমরা তিমির বিলাসী নই, তিমির বিনাশী হতে চাইSamik Lahiri |
নয়া ফ্যাসিবাদ চাইবেই আমরা যেন একে অপরের শত্রু হয়ে দাঁড়াই। তারা বিভাজনের রাজনীতি করে। এই বিভাজন রুখতে প্রয়োজন 'শ্রেণি চেতনা' ও 'মানবিক সংহতি'। যখন লড়াইটা হবে আত্মসম্মান আর মেরুদণ্ড রক্ষার, তখন কোনো বিভাজনই বিপ্লবী জনতাকে আটকে রাখতে পারবে না। তবে এই লড়াইটা আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। |
ইতিহাস কোনো সরলরেখা নয়, বরং এক বন্ধুর পথ — যেখানে উত্থান-পতন, অন্ধকার-আলোর দ্বন্দ্ব চিরন্তন। ফ্যাসিবাদের জঠর মানেই বিশাল এক জমাট অন্ধকার। বর্তমান বিশ্ব ও আমাদের সময় ঠিক তেমনই এক জমাট অন্ধকারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় আমরা বলছি 'নয়া ফ্যাসিবাদ'। এই ফ্যাসিবাদ ১৯৩০-এর দশকের মতো কেবল বুট জুতো আর কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পের গল্প নয়; এর জাল আরও বিস্তৃত, এর মরণকামড় আরও সূক্ষ্ম। তাই আজকের লড়াইটা কেবল গায়ের জোরের নয়, বরং সমান্তরালভাবে মগজ ও মতাদর্শের। নয়া ফ্যাসিবাদ: মুখোশ ও স্বরূপ বিশ শতকের ফ্যাসিবাদ চেনা সহজ ছিল। কিন্তু আধুনিক নয়া ফ্যাসিবাদ গণতন্ত্রের পোশাক পরে আসে। এরা মানুষের মৌলিক অধিকারকে হরণ করে 'উন্নয়ন' বা ‘ধর্মের নামাবালী’ চড়িয়ে এবং 'উগ্র জাতীয়তাবাদ'-এর আফিম খাইয়ে। এদের মূল অস্ত্র হলো ভয় এবং ঘৃণা। আধুনিক যক্ষপুরীর লোভী যন্ত্রগুলো আজ কেবল মানুষের শ্রম শুষে নিচ্ছে না, বরং অ্যালগরিদম আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করছে মানুষের চিন্তাশক্তিও, যাকে সাদা চোখে দেখা যায় না। যখন মানুষের মেরুদণ্ড নুইয়ে দেওয়া হয় এবং সত্য-মিথ্যাকে একাকার করে দেওয়া হয়, তখনই নয়া ফ্যাসিবাদের চূড়ান্ত বিজয় ঘটে। ইতিহাসই স্বাক্ষী - বিক্ষোভ, বিদ্রোহ, বিপ্লব কখনও আকাশ থেকে পড়ে না। প্রতিটি বড় পরিবর্তনের পেছনে থাকে একটি সুসংগঠিত মতাদর্শগত প্রস্তুতি। নয়া ফ্যাসিবাদ আজ মানুষের মনে হীনম্মন্যতা ও সংশয় ঢুকিয়ে দিচ্ছে — ‘আর কত রক্ত? আর কত হার? আর বোধহয় কখনোই ভালো দিন আসবে না।’ এই ভ্রান্ত ধারনাকে রুখতে হলে কেবল আবেগ নয়, প্রয়োজন প্রখর রাজনৈতিক চেতনা। লড়াই যখন মগজের আজকের লড়াইয়ে 'মগজ' বা 'ইন্টেলেকচুয়াল রেজিস্ট্যান্স' এত জরুরি হয়ে পড়ার কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। ১. তথ্য সন্ত্রাস ও প্রোপাগান্ডা: নয়া ফ্যাসিবাদ মিথ্যে তথ্য দিয়ে মানুষের ইতিহাসবোধ মুছে ফেলতে চায়। মানব সভ্যতার লড়াইয়ের ইতিহাস ভুলিয়ে দিয়ে সেখানে স্থান দেওয়া হয় হতাশা আর সেই হতাশগ্রস্ত মগজেই চাষ করা হয় উগ্র সাম্প্রদায়িকতা বা ভোগবাদের। এই মগজ ধোলাই রুখতে হলে ফিরে দেখতেই হবে ইতিহাসকে। ২. মতাদর্শের শূন্যতা: কোনও লড়াই দীর্ঘস্থায়ী হয় না, যদি তার পেছনে কোনও উন্নত জীবনদর্শন থাকে। বিশু পাগলের রক্ত যেমন জরাজীর্ণ ব্যবস্থার ভিতে মরণকামড় দিয়েছিল, বর্তমান সময়ে মুক্তচিন্তা ও বিজ্ঞানমনস্কতাই হতে পারে সেই মরণকামড়। ৩. সংস্কৃতির সংগ্রাম: ফ্যাসিবাদ সবার আগে যুক্তি, বিজ্ঞান, সংস্কৃতিকে আক্রমণ করে। তারা চায় মানুষ প্রশ্ন করা ভুলে যাক। তাই নন্দিনীর মতো প্রাণের স্পন্দন নিয়ে শিল্প, সাহিত্য আর যুক্তির মাধ্যমে সেই 'খোদাই করা পাথরের দম্ভ' চুরমার করতে হবে। বাংলার দ্রোহ ও ঐতিহ্যের পুনরুত্থান বাংলার এই মাটি তেভাগার লড়াই দেখেছে, দেখেছে খাদ্য আন্দোলন আর সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী উত্তাল দিনগুলি। আমরা সেই ঐতিহ্যের উত্তরসূরি, যারা শূন্য হাতে লাঠি আর কামানের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। একের পর গণআন্দোলনে এই রাজ্যের মানুষ প্রমাণ করেছে, শৃঙ্খল ভাঙার শব্দ এই মাটিতেই সবচেয়ে বেশি প্রতিধ্বনিত হয়। আজ ক্ষমতার দাপটে কেউ কেউ হয়তো সাময়িকভাবে পথ ভুলেছে, কিন্তু মানুষের শোষণ যখন চরমে ওঠে, তখন মানুষ তার পুরনো বন্ধুকেই চেনে। সেই বন্ধুদের নাম — লাল ঝাণ্ডার কমরেড। কিন্তু মনে রাখতে হবে, ‘গদি বদলের সস্তা নাটক’ যেন আমাদের এই লড়াইকে কলুষিত না করে। ক্ষমতার হাতবদল মানেই মুক্তি নয়। প্রকৃত মুক্তি তখনই আসবে, যখন সমাজের কাঠামো থেকে শোষণের বীজ উপড়ে ফেলা যাবে। নয়া ফ্যাসিবাদ চাইবেই আমরা যেন একে অপরের শত্রু হয়ে দাঁড়াই। তারা বিভাজনের রাজনীতি করে। এই বিভাজন রুখতে প্রয়োজন 'শ্রেণি চেতনা' ও 'মানবিক সংহতি'। যখন লড়াইটা হবে আত্মসম্মান আর মেরুদণ্ড রক্ষার, তখন কোনো বিভাজনই বিপ্লবী জনতাকে আটকে রাখতে পারবে না। তবে এই লড়াইটা আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। কারণ শত্রুপক্ষ এখন অদৃশ্য হাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আর মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে। আমাদের লড়তে হচ্ছে এক অদৃশ্য কারাগারের বন্দী হয়েই। তবে ইতিহাসের শিক্ষা হলো — কোনো স্বৈরাচারই চিরস্থায়ী নয়। ফিরে দেখা মনে পড়ে স্কটল্যান্ডের এক রাজার কাহিনী! নিচ্ছিদ্র অন্ধকারে ঢাকা এক স্যাঁতস্যাঁতে গুহা। বাইরে শত্রুর হুঙ্কার, আর ভেতরে রণক্লান্ত, বিধ্বস্ত রবার্ট ব্রুস। সাত-সাতবার পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে তিনি যখন নিজের চূড়ান্ত পরাজয় মেনে নেওয়ার মুহূর্তে, তখনই তাঁর চোখ আটকে যায় গুহার কোণে একটি সামান্য মাকড়সার দিকে। ওপর থেকে বারবার আছড়ে পড়ছে মাকড়সাটা, ছিঁড়ে যাচ্ছে তার জাল, কিন্তু সে থামছে না। সাতবার পড়ে গিয়েও অষ্টমবারে সে ঠিকই পৌঁছে গেল লক্ষ্যে। ব্রুস সেদিন বুঝেছিলেন — লড়াইয়ের অভিধানে 'পরাজয়' বলে কিছু নেই, ওটা আসলে এক নতুন শুরুর জেদ! সেই অদম্য জেদ নিয়ে তিনি ফিরে এলেন ময়দানে, আর ইতিহাসে লেখা রইল তাঁর বিজয়গাথা। রবীন্দ্রনাথের ‘রক্তকরবী’র যক্ষপুরীর সেই পাষাণ দেয়াল আর রক্তচোষা যন্ত্রের যাঁতাকলে যখন শ্রমিকদের প্রাণ পিষ্ট হচ্ছে, সেখানে বিদ্রোহের রক্তরাঙা নিশান হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন নন্দিনী। গান-পাগল বিশু প্রাণ দিল, রক্তে ভিজে গেল মাটি — শত্রুরা ভেবেছিল সব শেষ! কিন্তু না, বিশুর মৃত্যু তো যক্ষপুরীর সেই লৌহকপাট ভাঙার প্রথম বজ্রনির্ঘোষ! বিশুর মৃত্যু আসলে পরাজয় ছিল না, তা ছিল ফাগুলালদের বুকে দাবানল জ্বালিয়ে দেওয়ার মন্ত্র। ইতিহাসের শিক্ষা আজ বাংলার রাজনীতিতেও বামপন্থীদের অবস্থান সেই রবার্ট ব্রুসের মতো, কিংবা যক্ষপুরীর সেই অসম লড়াইয়ের মতো। আমাদের রক্ত ঝরছে মানে আমরা হারছি না; বরং আমরা শোষণের দুর্গ ভাঙার আঘাত চালিয়েই যাচ্ছি। আজকের আকাশ হয়তো মেঘলা, চারপাশের পরিবেশ হয়তো গুমোট। বারবার পরাজয়ের গ্লানি আর একাকীত্বের দহনে অনেকের মনে হয়তো প্রশ্ন জাগছে — ‘আর কতদিন?’ কেউ কেউ হয়তো ক্লান্তিতে মিছিলে আসার শক্তিটুকুও হারিয়ে ফেলছেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে, কমিউনিস্টরা এমন এক আদর্শের সৈনিক, যে আদর্শের অভিধানে 'শেষ' বলে কোনো শব্দ নেই। ইতিহাস আমাদের শিখিয়েছে, পরাজয় মানে বিনাশ নয়; পরাজয় হলো আসলে ঘুরে দাঁড়ানোর এক কঠিন পাঠশালা। মাকড়সার সুতোয় বোনা সেই 'অজেয় জেদ' নিয়ে আমাদের দাঁত কামড়ে পড়ে থাকতে হবে। লড়াইয়ের ময়দানে যারা 'বাতি আগলে দাঁড়িয়ে' থাকে, ইতিহাস তাদেরই বিজয়ী করে। আজকের এই কঠিন সময়ে আমাদের কাজ হলো রাস্তার লড়াইয়ের পাশাপাশি বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা বাড়ানো, সাধারণ মানুষের কাছে ফ্যাসিবাদের আসল রূপ উন্মোচন করা এবং একটি উন্নত বিকল্প মতাদর্শ ও সংস্কৃতি তৈরি করা। ১৯০৭-এর সেই অন্ধকার একবার পিছিয়ে যান ১৯০৭ সালের রাশিয়ায়। প্রথম বিপ্লবের প্রচেষ্টা রক্তের স্রোতে মুছে দিয়েছিল জার। চারিদিকে শুধু হাহাকার, মৃত্যু আর জেলখানা। লড়াইয়ের বহু সাথী তখন হতাশ হয়ে দল ছাড়ছিলেন। কিন্তু সেই হতাশার অন্ধকারের বুক চিরে লেনিন বলেছিলেন — "এ পরাজয় নয়, এটা হলো চূড়ান্ত জয়ের এক মহড়া।" লেনিন জানতেন, ১৯০৫-০৭ সালের সেই রক্ত না ঝরলে ১৯১৭ সালের লাল ভোর কোনোদিন আসবে না। আজকের এই প্রতিকূলতা আমাদের রক্তকে আরও তপ্ত করছে, আমাদের ভুলগুলোকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যাতে আগামীদিনের লড়াইয়ে আমরা একই প্রশ্নে আবার হোঁচট না খাই। লং মার্চের সেই রক্তঝরা পথে ধৈর্য ভেবে দেখুন সেই দিনগুলোর কথা, যখন মাও সে তুং-এর নেতৃত্বে চলা লাল ফৌজের বাহিনীকে ঘরবাড়ি ছেড়ে মাইলের পর মাইল পিছু হটতে হয়েছিল। চিয়াং কাই-শেক-এর কামানের সামনে তখন মাও-এর সাথীরা সংখ্যায় অতি সামান্য। কিন্তু সেই চরম বিপর্যয়ের দিনেও মাও হতাশ হননি। তিনি বলেছিলেন, "উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথ আঁকাবাঁকা হতে পারে, কিন্তু সেই ভবিষ্যৎ আসবেই।" সেই দীর্ঘ পদযাত্রাই ছিল চীনের মানুষের হৃদয়ে ঢুকে পড়ার পথ। রাস্তা-সময়, সবই ছিল দীর্ঘ – তাই তো ইতিহাস মনে রেখেছে ‘লং মার্চ’কেই। আজ আমাদের পরাজয় আমাদের মানুষের ঘরের দরজায় আবার ফিরে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। মানুষের ওপর ভরসা হারাতে নেই, কারণ মানুষই ইতিহাসের স্রষ্টা। মাও-এর কথায়, জনগণ, একমাত্র জনগণই হচ্ছে বিশ্ব-ইতিহাসের চালিকাশক্তি। জোয়ার-ভাটার দ্বন্দ্ব ও মার্কসীয় সত্য কার্ল মার্কস আমাদের শিখিয়েছেন, সমাজ একটা সরলরেখায় চলে না অথবা একমাত্রিকও হয় না। এ চলে দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে। ইতিহাসের চাকা যখন ঘোরে, তখন কখনও কখনও তা পিছিয়ে যায় বলে মনে হয়। কিন্তু সেই পিছিয়ে যাওয়া আসলে এক দীর্ঘ লাফের প্রস্তুতি। পুঁজিবাদ আজ যতই আস্ফালন করুক, তার ভেতরেই লুকিয়ে আছে তার ধ্বংসের বীজ। আমাদের কাজ শুধু ধীরস্থিরভাবে লড়াইয়ের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে থাকা। মনে রাখতে হবে, সমুদ্রে ভাঁটার পরই কিন্তু জলোচ্ছ্বাস আসে। ইতিহাসের অমোঘ গতি সমাজবিজ্ঞানের যুক্তি দিয়ে বিচার করলে দেখা যায়, কোনও শোষণমূলক ব্যবস্থাই চিরস্থায়ী নয়। আদিম সাম্যবাদ ভেঙে যখন দাস সমাজ তৈরি হলো, তা প্রায় চার হাজার বছর দাপটের সঙ্গে টিকে ছিল। তারপর এলো সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থা, যা বিশ্বজুড়ে টিকে ছিল প্রায় দেড় হাজার বছর এবং এখনও আমাদের দেশ সহ অনেক দেশেই এই ব্যবস্থা দুর্বল হলেও টিকে আছে। দীর্ঘ সময় ধরে যখন মানুষ শোষিত হচ্ছিল, তখনও অনেকে ভেবেছিলেন — হয়তো এই আঁধার কোনোদিন কাটবে না। কিন্তু ইতিহাসের চাকায় চাপা পড়ে সেই ‘অপরাজেয়’ মনে হওয়া ব্যবস্থাগুলোও ধুলোয় মিশে গেছে। স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিস্ট শাসকরা যখন ক্ষমতায় থাকে, তখন মনে হয় তাদের দাপট বোধহয় কোনোদিন শেষ হবে না। কিন্তু ইতিহাস আমাদের অন্য কথা বলে। যে মুসোলিনি ইতালিতে ফ্যাসিবাদের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন, তাঁর দাপট টিকে ছিল ২১ বছর। আর যে হিটলার গোটা পৃথিবী জয়ের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তাঁর নাৎসি শাসন টিকে ছিল মাত্র ১২ বছর। তবে অবশ্যই মনে রাখা দরকার সেই সময়ের পৃথিবীর পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল, স্ট্যালিন ছিলেন। ২ কোটি সোভিয়েতবাসীর প্রাণের বিনিময়ে সেদিন সমগ্র ইউরোপ, ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল। আজ সোভিয়েতও নেই, স্ট্যালিনও নেই। ফলে লড়াইটা লড়তে হবে সাধারণ মানুষকেই, যে লড়াই অতীতের চাইতে অনেক বেশী সময় ধরে চালাতে হবে নয়া ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে। এই লড়াইয়ে চাই অসীম ধৈর্য্য। রক্ত কখনও বৃথা যায় না — যদি সেই রক্ত সঠিক লক্ষ্যে প্রবাহিত হয়। চাই শানিত মস্তিষ্ক আমাদের মুষ্টিবদ্ধ হাত যখন আকাশ পানে ওঠে, তখন তার সঙ্গে থাকা মস্তিষ্ককেও হতে হবে শাণিত। নয়া ফ্যাসিবাদের অন্ধকার চিরে লাল সূর্য আসবেই। তবে সেই সূর্যোদয়ের আগে আমাদের থাকতে হবে অতন্দ্র প্রহরী। অন্ধকারের সবচেয়ে গভীর ক্ষণেই তো ভোরের সংকেত পাওয়া যায়। তাই সংশয় ঝেড়ে ফেলে, উন্নত মতাদর্শকে বর্ম করে আমাদের নামতে হবে ইতিহাসের ময়দানে। দুর্বল, ক্ষীণকায়, ভিতু, ফাঁকিবাজ, ভাড়াটে সেনাবাহিনী সংখ্যায় যত বেশি হোক না কেন, কোনো যুদ্ধেই জয়ের দিকে এগোতে পারে না। তেমনই দুর্বলচিত্ত, যুদ্ধের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য না জানা দিশাহীন কমিউনিস্ট হতাশা মুক্ত হয়ে নতুন উদ্যমে লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে না। নয়া ফ্যাসিবাদের মোকাবিলায় প্রয়োজন সচল, সবল, নিজেদের লক্ষ্যে স্থির টগবগে ঘোড়ার মতো পার্টির সংগঠক। সংখ্যায় বড় না ছোট সেটা বড় কথা নয়, আমাদের শক্তি ক্ষয়িষ্ণু না বর্ধিষ্ণু – নজরে রাখতে হয় সেটাকেই। এগুলোই আজকের দিনে আমাদের অন্যতম প্রধান কাজ। জয় আমাদের সুনিশ্চিত! সমাজতন্ত্রই ভবিষ্যৎ, ভবিষৎ আমাদেরই। প্রকাশের তারিখ: ১০-মে-২০২৬ |
© কপিরাইট ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি
|