দেশে দেশে মাতৃভাষা আন্দোলন

Dr. Nurul Islam
যে ভাষায় কথা বলে মানুষ বড় হয়, তার শৈশব তার যৌবন কাটিয়েছে যে ভাষায়, সে ভাষা কেউ কেড়ে নিতে এলে মানুষ তাকে ক্ষমা করেনা, প্রতিবাদ করে প্রতিরোধ করে,এমনকি মাতৃভাষার জন্য মানুষ অকাতরে প্রাণ বলি দিতেও পারে।

 ১৯৯৯ সালের ১৭ ই নভেম্বর ইউনেস্কোর সাধারণ সভার ৩০ তম প্যারিস অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার পরে ২০০০ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি থেকে বিশ্বের ১৮৮ টি দেশে এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
 আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশ্বজুড়ে ভাষাগত সাংস্কৃতিক বৈচিত্র রক্ষার্থে পালিত একটি মর্যাদাপূর্ণ দিন,  ঐতিহ্য ও বহুভাষিকতার প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক।
     বিখ্যাত নাইজেরিয়ান উপন্যাসিক চিমামান্দা অদিচি  বলেন,’একটি সংস্কৃতির ভাষা তার গল্প,তার ইতিহাস, তার মূল্যবোধ,তার প্রথা এবং তার ঐতিহ্যের  ধারক-বাহক। যখন একটি ভাষা মারা যায় তখন সেটি তার সংস্কৃতিকেও সাথে নিয়ে চলে যায়।'
 মাতৃভাষার রক্ষার  জন্য জীবনপণ আন্দোলন ঘটেছে ভারত,পাকিস্তান, স্পেন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ নানা দেশে।


    বহু ভাষা-ধর্ম বিশিষ্ট দেশ বা জাতির পরস্পরের ভাষা ধর্মকে স্বীকৃতি দেওয়ার অর্থই হলো সমাজের পরস্পরের মধ্যে বোঝা পড়ার রাস্তাকে প্রশস্ত করা, সম্প্রীতি - সংহতিবোধকে  আরো উন্নত করা,শক্তিশালী করা। আধিপত্যবাদী মানসিকতা নিয়ে নয়, পারস্পরিক সহযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে  ধৰ্মীয় ও ভাষাগত সংখ্যালঘু মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে সংখ্যা গুরু মানুষকে। এ কথা পৃথিবীর সব দেশের ক্ষেত্রেই সত্য। যেমন ভারতে সত্য, তেমনি বাংলাদেশ পাকিস্তান আফগানিস্তান সিংহল ইত্যাদি সকল দেশেই মহাদেশেই অবশ্য পালনীয় কর্তব্য। 
   আর তা না হয়ে উল্টোটা ঘটলে অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থেই সংঘাত ঘটতে বাধ্য। যে ভাষায় কথা বলে মানুষ বড় হয়, তার শৈশব তার যৌবন কাটিয়েছে যে ভাষায়, সে ভাষা কেউ কেড়ে নিতে এলে মানুষ তাকে ক্ষমা করেনা, প্রতিবাদ করে প্রতিরোধ করে,এমনকি মাতৃভাষার জন্য মানুষ অকাতরে প্রাণ বলি দিতেও পারে। মাতৃভাষার রক্ষার  জন্য আন্দোলন ঘটেছে যুগে যুগে, ভিন্ন ভিন্ন দেশে।
     মাত্র বছর পাঁচেক আগে ২০২১ সালে স্পেনের সেনেট আন্দালুসিয়ান ভাষাকে 'প্রাকৃতিক ভাষা' বা অবশ্য প্রয়োজনীয় ভাষারূপে স্বীকৃতি দেয়। বলা হয় আন্দালুশিয়ান  ভাষা স্পেনের অন্যান্য ভাষার তুলনায় কোন অংশে ছোট নয়, অন্য ভাষার মতোই গুরুত্বপূর্ণ ভাষা। এই ভাষাকে নিয়ে আন্দোলন তৈরি হয় সামাজিক মাধ্যমে লেখক গবেষকদের হাত ধরে। তারা এর জন্য 'সোসাইটি ফর দ্য স্টাডি অফ আন্দালুসিয়ান ' নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলে। তাঁরা দাবি করেন আন্দালুসিয়ান ভাষা কোন উপভাষা নয়, এটি তাদের ঐতিহ্য ও ইতিহাসেরই  অংশ। তাদের এই দাবিকে স্পেনের 'ডিজিটাল ফ্রিডম' পত্রিকা বামপন্থী দাবী হিসেবে আখ্যায়িত করে।


    ২০১৭ সালে আন্দালুসিয়ান ভাষায় The Little Prince নামে একটি বই প্রকাশিত হয়। এই বইকে নিয়ে নানাভাবে ট্রল বা ব্যঙ্গ করা হয়। তার উত্তর দেওয়ার জন্য আন্দালুসিয়ান ভাষার লেখক গবেষকরা এগিয়ে আসেন। 'এ প্রিন্সিপিতো আন্দালু ' ও  'আন্দালুগিক্স' নামে দুটি সংগঠন গড়ে তোলেন তাঁরা এবং আন্দালুশিয়ান  ভাষায় ট্রান্সক্রিপ্ট বানানো ভাষান্তরের কাজ করতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত সামাজিক গণমাধ্যমের চাপেই ২০২১ সালে স্পেনের সিনেট অন্য ভাষার মতোই আন্দালুশিয়ান ভাষাকেও স্বীকৃতি দেয়।
   ১৯৭৬ সালে স্কুল ছাত্রদের মাধ্যমে শুরু হয় এক ভাষা আন্দোলন দক্ষিণ আফ্রিকার জোহ্যান্সবার্গ শহরে।সেই সময় শ্বেতাঙ্গ বর্ণবিদ্বেষী সরকার বাধ্যতামূলকভাবে বিদ্যালয়ে জার্মান-ডাচ ভাষাকে চাপিয়ে দেয়। তখন ছাত্ররা রাস্তায় নেমে এসে প্রতিবাদের ঝড় তোলে। তারা মাতৃভাষা হিসেবে জুলু আর লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা হিসেবে ইংরেজি ভাষার দাবি করে। শুরু হয় তীব্র আন্দোলন।
 ১৯৭৬ সালের ১৬ জুন শিশু-কিশোরসহ শতাধিক মানুষের প্রাণ যায়, আহত হয় আরো অনেক বেশি। ভাষার জন্য এই আন্দোলনকে বলা হয় 'সুয়েটো অভ্যুত্থান' আর ট্রাজিক করুন বিষাদময় দিনটিকে বলা হয় 'ডে অফ চাইল্ড'। এই ঘটনার পর থেকে আফ্রিকার ন্যাশনাল কংগ্রেসের শ্বেতাঙ্গ বিরোধী আন্দোলন আরো জোরদার হয়ে ওঠে, তীব্রতর রূপ ধারণ করে, নেলসন ম্যান্ডেলাকে ২৭ বছর ধরে জেলবন্দী থাকতে হয়। পরবর্তীকালে এই বর্ণবিদ্বেষী শ্বেতাঙ্গ সরকারের পতন ঘটে এবং জুলু ভাষা তার মর্যাদা ফিরে পায়। 
    ১৯৬০ থেকে দীর্ঘ  সময় ধরে মার্কিন আদিবাসীরা তাঁদের নিজস্ব ভাষা রক্ষার দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলে এবং তাদের আন্দোলনের ফলস্বরূপ দীর্ঘ ৩০ বছর পর ১৯৯০ সালে ৩০ অক্টোবর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে আইন পাস হয় এবং এই আইন বলে তাদের আদিবাসী ভাষার রক্ষা এবং সংরক্ষণ নিশ্চিত করা হয়। ফলস্বরূপ একাধিক অঙ্গরাজ্যে ইংরেজির আধিপত্য কমে ও আদিবাসী মানুষের ভাষা মর্যাদা পায়।

    দক্ষিণ ভারতে ভাষার জন্য প্রথম রাজনৈতিক প্রতিবাদ ১৯৩৭ সালে। ব্রিটিশ শাসনাধীন মাদ্রাজ প্রেসিডেনসির কংগ্রেস সরকার স্কুলে বাধ্যতামূলক ভাবে হিন্দি চাপিয়ে দিলে এই আন্দোলন শুরু হয়। তিন বছর ধরে এই আন্দোলনে মারা যান দুজন আর  নারী শিশু সহ গ্রেফতার হন  ১ হাজার ১৯৮ জন। ১৯৩৯ সালে কংগ্রেস সরকারকে  পদত্যাগ করতে হয় এবং ১৯৪০ সাল থেকে বাধ্যতামূলকভাবে হিন্দি শিক্ষার আইন প্রত্যাহার করা হয়।
   তার চেয়েও মাদ্রাজ রাজ্যে ভাষার জন্য বিরাট বড় আকারের আন্দোলন হয় ১৯৬৫ সালে। সেই বছর ২৬ শে জানুয়ারি কেন্দ্রীয় সরকার হিন্দি ভাষাকে জোর করে চাপিয়ে দেয়। এই আন্দোলনে দুশোর বেশি মানুষ প্রাণ হারান, আত্মাহুতির ঘটনাও ঘটে তামিলনাড়ুর বিভিন্ন শহরে। এই আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় মাদ্রাজ ও আন্নামালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীরা।

     আসাম রাজ্যে অহমিয়া ভাষাকে একমাত্র সরকারি ভাষা করার সিদ্ধান্ত নিলে তীব্র জোরালো আন্দোলন হয়। আসামের বরাক উপত্যকা  শিলচর অঞ্চলের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ছিল বাংলা ভাষা ভাষী। অহমিয়া ভাষার পাশাপাশি বাংলাকেও সরকারি ভাষা রাখার  দাবিতে শিলচর রেলওয়ে স্টেশনে জমায়েত হয় অসংখ্য মানুষ ১৯৬১ সালের ১৯ মে। আসাম রাইফেলসের  পুলিশ বাহিনী নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ১১ জনকে হত্যা করে। এরা হলেন কমলা ভট্টাচার্য, কানাইলাল নিয়োগী, চণ্ডীচরণ সূত্রধর, হিতেশ বিশ্বাস,সত্যেন্দ্র দেব, কুমুদ রঞ্জন দাস, সুনীল সরকার, তরণী দেবনাথ, শচীন্দ্রনাথ পাল, বীরেন্দ্র সূত্রধর, সুকোমল পুরকায়স্থ প্রমুখ। 
    সার্কুলার প্রত্যাহারের দাবিতে ভাষা আন্দোলনের জন্য শহীদ হন করিমগঞ্জে বিজন চক্রবর্তী, ১৯৮৬ সালের ২১ শে জুলাই। বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে বাংলা ভাষাকেও যুক্ত করার দাবীতে শহীদ হন করিমগঞ্জের  জগন্ময় দেব এবং দিব্যেন্দু দাস।
   মানভূম অঞ্চলে বাংলা ভাষার জন্য আন্দোলন শুরু হয় ১৯১২ সালে। ১৯৪৮ থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত এই ভাষা আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে। ১৯৫৬ সালের আগে পুরুলিয়া জেলা বিহারের অন্তর্ভুক্ত ছিল  এবং সেখানকার স্কুল কলেজ সরকারি দপ্তরে হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তার প্রতিবাদে মানভূমের সারা পুরুলিয়া এলাকা জুড়ে লাগাতর বন্ধ অবরোধ চলতে থাকলে ভারত সরকার মানভূম জেলা ভেঙে পুরুলিয়া নামে আরেকটি আলাদা জেলা তৈরি করে  পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত করে এবং সেখানকার মাতৃভাষা রূপে স্কুল কলেজ সরকারি দপ্তরে বাংলা ভাষা স্বীকৃতি পায়।
   মাতৃভাষার জন্য কর্ণাটক মহারাষ্ট্র পাঞ্জাব ইত্যাদি রাজ্যেও আন্দোলন হয়েছে নানা সময়ে নানা নানা ভাবে।
   মাতৃভাষা বাংলার জন্য তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বা পূর্ব বাংলার আন্দোলন সারা বিশ্বে স্মরণীয় নানা কারণে। মাতৃভাষার আন্দোলনের মধ্য দিয়েই সেই দেশে ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয়তাবাদী স্বাধীনতা আন্দোলন তীব্রতর রূপ ধারণ করে এবং ১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে মুক্তি লাভ করে ধর্মনিরপেক্ষ স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
  দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে দেশভাগের পর ১৯৪৭  সালের ডিসেম্বরে এক সম্মেলনে একমাত্র উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পাকিস্তান পাবলিক সার্ভিস কমিশন বাংলাকে তাদের অনুমোদিত বিষয়ে তালিকা থেকে বাদ দেয় ও সাথে সাথে মুদ্রা ও ডাকটিকিট থেকেও বাংলা অক্ষর বিলুপ্ত করে। এর বিরুদ্ধে  ১৯৪৭ সালের ৮ ই ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ছাত্রদের এক বিশাল সমাবেশে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দানের আনুষ্ঠানিক দাবি উত্থাপন করা হয়।

      পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ ও ২৪ মার্চ দুটি জনসভায় দাম্ভিকতার সঙ্গে ঘোষণা করেন, '' State language of Pakistan is going to be Urdu,no other language.'' 
     ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন ঢাকার পল্টন ময়দানে  জনসভায় রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলা ভাষার দাবিকে সম্পূর্ণ নস্যাৎ  করে জিন্নার কথার প্রতিধ্বনি করে বলেন, পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে একমাত্র উর্দু। তার প্রতিবাদে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ২৯ জানুয়ারি প্রতিবাদ সভা এবং ৩০ জানুয়ারি ঢাকায় ছাত্র ধর্মঘট পালন করে। পরদিন ৩১ শে জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বার লাইব্রেরী হলে মাওলানা ভাসানির নেতৃত্বে ৪০সদস্যের সর্বদলীয়  পরিষদ একুশে ফেব্রুয়ারী হরতাল সমাবেশ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। 
    সকাল ন'টা থেকে হাজার হাজার ছাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে হাজির হয়।  বেলা এগারোটা নাগাদ ছাত্ররা  রাস্তায় নামার প্রস্তুতি নিলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। কিন্তু তা ভ্রুক্ষেপ না করে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রাস্তায় নেমে পড়ে হাজার হাজার ছাত্র। বেলা তিনটার সময়  পুলিশ ছাত্রদের লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ শুরু করে। আব্দুল জব্বার, রফিক আহমেদ, আব্দুস সালাম, আবুল বরকতসহ বেশ কয়েকজন  নিহত হন। ঐদিন অলিউল্লাহ নামের একজন আট নয় বছরের বালকও নিহত হয়।
   নানা ঘটনার পরে বাংলা রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পায় ১৯৫৭ সালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির তত্ত্বাবধানে ১৯৬৩ সালে শহীদ মিনারের নির্মাণ কাজ শেষ হয় এবং এর উদ্বোধন করেন শহীদ বরকতের মা ১৯৬৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি।
   পাকিস্তানে বাংলাকে সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দানের  আন্দোলনে বহু মহিলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ভাষা আন্দোলনের সৈনিক আবুল কাশেমের স্ত্রী রাহেলা, বোন রহিমা, ভাইয়ের বৌ রোকেয়া লুকিয়ে থাকা আন্দোলনকারীদের রান্না করা খাবারের ব্যবস্থা করতেন। বহু কলেজ ছাত্রী 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই' এই দাবিতে পুলিশের বন্দুকের  সামনে দাঁড়িয়ে স্লোগান দিতে থাকেন ও মিছিলে হাঁটেন। তারা রাত জেগে পোস্টার লেখা, আহতদের শুশ্রূষাসহ নানাভাবে সহায়তা করেন। এমনকি এই ছাত্রীরা আহতদের চিকিৎসার জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাহায্য তুলে আনেন। পুলিশের তাড়া খাওয়া ছাত্রদের নিজেদের হোস্টেলে লুকিয়ে রাখেন। আন্দোলনের খরচ যোগানোর জন্য অনেক গৃহিনী গায়ের অলংকার খুলে দেন। অনেক নারীকে জেলও খাটতে হয়, কেউ হারান সংসার, কেউ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কৃত হন। এই সমস্ত ঘটনার পরিচয় পাওয়া যায় সমসাময়িক আজাদ পত্রিকায়, ভাষা সৈনিকদের স্মৃতিচারণায় ও নানা বইতে। 

    একুশে ফেব্রুয়ারি গুলিবর্ষণের ঘটনাকে নিয়ে বিখ্যাত গান ' আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি' গানটি রচনা করেন আব্দুল গাফফার চৌধুরী এবং সুরারোপ করেন আব্দুল লতিফ। বিবিসি শ্রোতা জরিপে বাংলা ভাষা শ্রেষ্ঠ গানের তালিকায় এটি তৃতীয় স্থান লাভ করে একসময়। এই গানটি সুইডিস, জাপানীসহ আরও বহু ভাষায় অনূদিত হয়। ভাষা আন্দোলন নিয়ে রচিত কয়েকটি বিখ্যাত সৃষ্টি হলো মুনির চৌধুরী রচিত নাটক 'কবর', কবি শামসুর রহমান রচিত কবিতা 'বর্ণমালা,আমার দুঃখিনী বর্ণমালা', জাহির রায়হান রচিত উপন্যাস 'একুশে ফেব্রুয়ারি', শওকত ওসমান রচিত ‘আর্তনাদ' উপন্যাস ইত্যাদি। ভাষা আন্দোলনকে উপলক্ষ করে নির্মিত হয়েছে জাহির রায়হান পরিচালিত চলচ্চিত্র 'জীবন থেকে নেয়া' ইত্যাদি। এই সময়ের ভাষা আন্দোলনের আরেকটি বিখ্যাত আব্দুল লতিফের গান,
  "ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়।
 ওরা কথায় কথায় আমায় শিকল পরাতে চায়।"
     সেই সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর,নজরুল ইসলামের দেশাত্মবোধক বহু কবিতাও গান ভাষা আন্দোলনের লড়াকু সৈনিকদের উদ্দীপিত উজ্জীবিত করে।
 “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি। “

প্রকাশের তারিখ: ২১-ফেব্রুয়ারি-২০২৬

© কপিরাইট ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি
৩১, আলিমুদ্দিন স্ট্রিট
মুজফ্ফ‌র আহমদ ভবন
কলকাতা - ৭০০০১৬

ফোন: ০৩৩ - ২২১৭৬৬৩৩, ২২১৭৬৬৩৪
www.cpimwestbengal.org