|
||||||||||||
ভারতের গণতন্ত্রে নয়া-ফ্যাসিবাদী থাবা নেপথ্যে আরএসএস-বিজেপি জোটSamik Lahiri |
||||||||||||
৬০ লক্ষ নথিপত্র যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হলো মাত্র কয়েকশ’ বিচারপতির ওপর। অঙ্কের সোজা হিসাব বলছে, ৪০০ জন বিচারপতি যদি দিনরাত এক করেও কাজ করেন, তবুও এই বিপুল পরিমাণ নথির বিশ্লেষণ করে প্রত্যেকটি অভিযোগের নিরপেক্ষ শুনানি শেষ করা কয়েক বছরেও সম্ভব নয়। |
||||||||||||
| ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনায় উল্লিখিত 'গণতান্ত্রিক সাধারণতন্ত্র' আজ গভীর অস্তিত্ব সংকটের সম্মুখীন। গত কয়েক বছরে নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর যে সুপরিকল্পিত আক্রমণ নেমে এসেছে, তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’বা তথ্যের অসামঞ্জস্যের আড়ালে লক্ষ লক্ষ ভোটারকে আতঙ্কিত করা এবং সুনির্দিষ্টভাবে ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও দরিদ্র প্রান্তিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু বানানো। নির্বাচন কমিশন যেভাবে স্বাধীন নিরপেক্ষ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদাকে বিসর্জন দিয়ে আরএসএস-বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকারের আজ্ঞাবহ দাসে পরিণত হয়েছে, তা কেবল জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের পরিপন্থীই নয়, বরং ভারতীয় সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর ওপর এক নগ্ন আঘাত। তথ্যের গোলকধাঁধা ও সুপরিকল্পিত আতঙ্ক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা গেছে, ভোটদানের হার এবং গণনার চূড়ান্ত তথ্যের মধ্যে বিস্তর ফারাক থেকে যাচ্ছে। এই তথাকথিত 'লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি' কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, বরং এটি একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার। বিশেষ করে সংখ্যালঘু প্রধান এলাকা এবং পিছিয়ে পড়া জনপদগুলোতে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া বা ভুয়ো তথ্যের অজুহাতে ভোটদানে বাধা দেওয়ার যে হিড়িক পড়েছে, তা আসলে নয়া-ফ্যাসিবাদী কৌশলেরই অংশ। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে সুপরিকল্পিতভাবে লক্ষ লক্ষ মানুষকে নাগরিকত্ব হারানোর ভয় দেখানো হচ্ছে। এই লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি আসলে ডি-ভোটার (D-voter) বা এনআরসি-র প্রাথমিক ধাপ, যাকে অস্ত্র করে প্রান্তিক মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার এই প্রচেষ্টা সরাসরি ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২৪-এর অবমাননা। ক্ষমতার পৃথকীকরণ ও বিচারব্যবস্থার আধিপত্য ভারতীয় সংবিধানের অন্যতম স্তম্ভ হলো 'সেপারেশন অফ পাওয়ার' বা ক্ষমতার পৃথকীকরণ। কার্যনির্বাহী বিভাগ (Executive), আইনসভা (Legislature) এবং বিচার বিভাগ (Judiciary) প্রত্যেকে নিজের নিজের জায়গায় স্বাধীন। কিন্তু বর্তমান সরকার অত্যন্ত সুকৌশলে এই ভারসাম্য সম্পূর্ণ নষ্ট করে দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন, যাদের কাজ হলো নির্বাচন সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করা এবং অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট পরিচালনা করা, তারা আজ নিজেদের পিঠ বাঁচাতে বিচার ব্যবস্থাকে অকারণে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে টেনে আনছে। যখনই কোনো নির্বাচনী কারচুপির প্রশ্ন উঠছে, কমিশন সরাসরি সমাধানের পরিবর্তে আইনি মারপ্যাঁচে সময় নষ্ট করছে অথবা এমন অবস্থান নিচ্ছে, যা বিচারবিভাগকে প্রশাসনিক কাজে হস্তক্ষেপ করতে প্ররোচিত করছে। এটি আসলে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকেই অস্বীকার করা। প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে কমিশন আজ এমন এক জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে যেখানে তারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকার চেয়ে দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দকে খুশি রাখতে বেশি ব্যস্ত। সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার হরণ জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১ অনুযায়ী জাতি, ধর্ম, বর্ণ আওর্থনৈতিক অবস্থা নির্বিশেষে প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের ভোটাধিকার সুনিশ্চিত করা রাষ্ট্রের প্রাথমিক দায়িত্ব। কিন্তু আরএসএস-পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকার এই আইনের মূল নির্দেশকেই পদদলিত করছে। ১. টার্গেটেড ডিসেনফ্রাঞ্চাইজেশন অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট জনবিন্যাসকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সংখ্যালঘু জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বুথ কমিয়ে দেওয়া বা বুথের অবস্থান পরিবর্তন করে মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। ২. দরিদ্র এবং প্রান্তিক মানুষ হলো এদের আর এক প্রধান লক্ষ্যবস্তু। দলিত, আদিবাসী এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য প্রশাসনিক জটিলতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ৩. নয়া-ফ্যাসিবাদ কেবল বন্দুকের নলে আসবে না, তা আসে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারকে আইনি মারপ্যাঁচে পঙ্গু করে দেওয়ার মাধ্যমে। আরএসএস-বিজেপি সরকার সেই পথেই হাঁটছে। এই প্রক্রিয়ার মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো - ভৌগোলিক টার্গেট - যেসব নির্বাচনী এলাকায় শাসকদল দুর্বল, সেখানে ভোটারদের ভয় দেখানো বা বুথ দূরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া। গণনা কেন্দ্রও শাসক দলের সুবিধাজনক জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। সামাজিক টার্গেট - বিশেষ কোনো সম্প্রদায়কে (যেমন মুসলিম বা দলিত) নাগরিকত্ব বা কাগজপত্রের অজুহাতে ভোটদান থেকে বিরত রাখা। বিশেষত প্রান্তিক দরিদ্র মানুষদের ‘প্রামাণ্য কাগজ’-এর অভাবের কারণ দেখিয়ে ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা। নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে ভোটার তালিকায় এমন সব 'টেকনিক্যাল' ভুল করার কাজ চলছে যাতে সাধারণ মানুষ শেষ মুহূর্তে ভোট দিতে না পারে। বর্তমানে আমাদের রাজ্যে যে ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’-এর নাম করে ঝুলিয়ে রাখা হলো, এরা আদৌ ভোট দিতে পারবেন কিনা কেউ জানেন না! ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২৬ এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১–এর ধারা ৬২ অনুযায়ী এই পদক্ষেপ তো সরাসরি ভোটদানের মৌলিক অধিকারকে হরণ করা। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়বদ্ধতা এই গোটা প্রক্রিয়াটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক এজেন্ডা। আরএসএস-এর 'হিন্দু রাষ্ট্র' গড়ার লক্ষ্যে যে বাধা রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো সর্বজনীন ভোটাধিকার। কারণ সাধারণ মানুষ যখনই রুটি-রুজি এবং অধিকারের প্রশ্নে সরব হয়, তখনই বিজেপির মেরুকরণের রাজনীতি ধাক্কা খায়। তাই সরাসরি ভোট যুদ্ধের আগে ভোটারদের একাংশকে বিশেষ করে যারা সরকারের বিরোধী, মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়া এবং আইনত পঙ্গু করে দেওয়াই হলো এই সরকারের প্রধান কৌশল। প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের শীর্ষ সংবিধানিক পদে থেকেও কার্যত সেই সংবিধান ধ্বংসেরই ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করছেন। নির্বাচন কমিশনকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এক্সটেনশন কাউন্টারে পরিণত করা হয়েছে। এটি কেবল গণতান্ত্রিক অবক্ষয় নয়, এ এক ধরনের সাংবিধানিক ক্যু (Constitutional Coup)। বিচারব্যবস্থার ভুমিকা- ফ্যাসিবাদের নতুন রক্ষাকবচ সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানি ও রায়ে যে দীর্ঘসূত্রতা দেখা গেছে, তা কার্যত আরএসএস-বিজেপির রাজনৈতিক অভিসন্ধি বাস্তবায়নের সুবর্ণ সুযোগ করে দিয়েছে। যখন লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’-এর অজুহাতে বাদ দেওয়া হচ্ছিল, তখন বিচারবিভাগের উচিত ছিল অবিলম্বে এই ‘ডিজিটাল কারচুপি’রুখে দেওয়া। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল এক অদ্ভুত ও অবাস্তব চিত্র। প্রায় ৬০ লক্ষ নথিপত্র যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হলো মাত্র কয়েকশ’ বিচারপতির ওপর। অঙ্কের সোজা হিসাব বলছে, ৪০০ জন বিচারপতি যদি দিনরাত এক করেও কাজ করেন, তবুও এই বিপুল পরিমাণ নথির বিশ্লেষণ করে প্রত্যেকটি অভিযোগের নিরপেক্ষ শুনানি শেষ করা কয়েক বছরেও সম্ভব নয়। এই অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রা আসলে একটি 'আইনি মরিচিকা' ছাড়া আর কিছু নয়। একদিকে বিচারব্যবস্থার ওপর কাজের পাহাড় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, আর অন্যদিকে সেই সুযোগে নির্বাচন কমিশন শাসকদলের ব্লু-প্রিন্ট অনুযায়ী ভোটার তালিকায় কাটছাঁট চালিয়ে গেছে। বিচারব্যবস্থাকে এই জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী প্রক্রিয়ায় জড়িয়ে ফেলে আসলে সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে, যাতে নির্বাচনের আগে বিরোধীরা বা সাধারণ মানুষ আইনি প্রতিকার না পায়। এই দীর্ঘসূত্রতা কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত কৌশল — যার মাধ্যমে বিচারব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দিয়ে প্রান্তিক মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার নয়া-ফ্যাসিবাদী রূপটিকেই বৈধতা দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের ভূমিকা দ্বৈত ভূমিকা পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্রের এই অবক্ষয় এক নজিরবিহীন রূপ নিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকার রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোকে কার্যত দলের আজ্ঞাবাহক বাহিনীতে রূপান্তরিত করেছে। বিডিও থেকে জেলাশাসক — সরকারি আধিকারিকরা আজ সংবিধানের বদলে কালীঘাটের নির্দেশেই চলতে অভ্যস্ত। এই প্রশাসনিক মেরুদণ্ডহীনতার ফলেই বিচারবিভাগ আজ বাধ্য হচ্ছে এবং সুযোগ পাচ্ছে সরকারি আধিকারিকদের হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে সরাসরি বিচারকদের ওপর নির্বাচনী বা প্রশাসনিক যাচাইয়ের দায়িত্ব অর্পণ করতে। এ কেবল একটি প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের ওপর জনগণের আস্থা হারানোর এক চরম উদাহরণ। সবচেয়ে ভয়ানক বিষয় হলো, তৃণমূল নেত্রী মুখে বিজেপি বিরোধিতার কথা বললেও, কার্যক্ষেত্রে তাঁর এই স্বৈরাচারী প্রশাসনিক মডেল আরএসএস-বিজেপির এজেন্ডাকেই বাস্তবায়িত করছে। ভোটার তালিকা থেকে সুকৌশলে নাম বাদ দেওয়া বা কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভয়ে প্রশাসনিক স্থবিরতা বজায় রাখা আসলে দিল্লির শাসকদেরই সুবিধা করে দিচ্ছে। একদিকে ধর্মীয় মেরুকরণ আর অন্যদিকে প্রশাসনিক দলদাসের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারকে খর্ব করা — এই দুই সমান্তরাল রেখা আজ একবিন্দুতে মিলিত হয়েছে। তৃণমূলের এই ‘ছদ্ম-বিরোধিতা’ আসলে আরএসএস-এর সেই নয়া-ফ্যাসিবাদী রূপেরই এক আঞ্চলিক সংস্করণ, যা পরোক্ষভাবে বিজেপিকে বাংলায় জমি ছেড়ে দিচ্ছে এবং প্রান্তিক মানুষের ভোটাধিকার হরণের পথ প্রশস্ত করছে। আইনি ও প্রশাসনিক লড়াই যাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বা ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’-র তালিকায় ঝুলে আছে, তাদের জন্য লড়াইয়ের পথ হলো -
সতর্কবার্তা- প্রতিটি আবেদনের ক্ষেত্রে 'অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ' বা প্রাপ্তি স্বীকার পত্র সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক। এটি আপনার নাগরিকত্বের আইনি প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে। বামপন্থীদের লড়াই ও আগামীর দিশা এই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই কেবল আইনি লড়াই অথবা আবেদন-নিবেদনে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। তীব্র জঙ্গী ধারাবাহিক গণআন্দোলন এবং আইনি লড়াইকে একীভূত করতে হবে। ভারতের কমিউনিস্ট ও বামপন্থী শক্তি বরাবরই গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। আজ সময় এসেছে আরও একবার সেই লড়াইকে তীব্রতর করার। ভোটার তালিকা সংশোধন থেকে শুরু করে ভোট গণনা পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে বামপন্থী কর্মীদের অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা নিতে হবে। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে যে প্রতারণা চলছে, তা সাধারণ মানুষের কাছে সহজ ভাষায় পৌঁছে দিতে হবে। বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে এবং নির্বাচন কমিশনের একনায়কতান্ত্রিক আচরণের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টসহ সমস্ত উচ্চ আদালতে জোরালো সওয়াল করতে হবে। সংবিধান কোনো স্থবির নথি নয়, এটি একটি জীবন্ত সত্তা। কিন্তু যখন রক্ষকই ভক্ষকের রূপ নেয়, তখন সেই সংবিধান রক্ষা করার দায়িত্ব বর্তায় আপামর জনসাধারণের ওপর। আরএসএস-বিজেপি জোট যেভাবে ক্ষমতার দম্ভে এবং ঘৃণার রাজনীতি দিয়ে ভারতের গণতন্ত্রের ভিত্তিপ্রস্তর অর্থাৎ ভোটাধিকারকে চূর্ণ করার চেষ্টা করছে, তার যোগ্য জবাব দিতে হবে রাজপথের লড়াইয়ে। নির্বাচন কমিশনের মেরুদণ্ডহীনতা এবং দুই সরকারেরই ফ্যাসিবাদী মানসিকতা ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ পরিকাঠামোকে ধ্বংস করতে উদ্যত। এই অন্ধকারের বিরুদ্ধে বামপন্থী গণতান্ত্রিক ও প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষ আন্দোলনই হতে পারে আলোকবর্তিকা। ভারতের সংবিধান বাঁচাও, গণতন্ত্র বাঁচাও — এই স্লোগান আজ কেবল কোনো রাজনৈতিক দলের নয়, বরং প্রত্যেকটি সচেতন নাগরিকের অস্তিত্ব রক্ষার স্লোগান হয়ে ওঠা জরুরি। শুধুমাত্র স্লোগানই নয়, অবরুদ্ধ করতে হবে নির্বাচন কমিশনের দপ্তর থেক বিডিও/এডিও দপ্তর। গণ আন্দোলনের তরঙ্গশীর্ষেই আদায় করতে হবে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। - এতা শুধু ওয়েবের জন্য। অন্য কোথাও বেরোবে না। এটাকাল দিতে পারো, সবাই মনে করলে। প্রকাশের তারিখ: ০৫-মার্চ-২০২৬ |
||||||||||||
© কপিরাইট ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি
|