একবিংশ শতাব্দীর ‘হলোকাস্ট’

অরন্য চৌধুরী

স্বাধীন প্যালেস্তাইনের পক্ষে আন্তর্জাতিক মত আরও বলিষ্ঠ হয়েছে। এই প্রথম বিশ্ববাসি প্রত্যক্ষ করছে, একটি পরিকল্পিত গণহত্যাকে আড়াল করতেও 'রাষ্ট্রের আত্মরক্ষার অধিকার' যুক্তি খাড়া করা যায়, শিশুহত্যাকে 'প্রয়োজনীয়' বলে দাবি করা যায় এবং প্রতিবাদকারীদের 'সন্ত্রাসবাদী' তকমা দেওয়া যায়।

The 21st century 'Holocaust'
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস সহ প্যালেস্তিনীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলি ইজরায়েলে হামলা চালায়, যা গাজা থেকে পরিচালিত হয়েছিল বলে ইজরায়েলের দাবি। প্রশ্ন ওঠে, ছয় দশক ধরে সামরিক অবরোধে থাকা ২৭ কিমি লম্বা গাজা ভূখণ্ড থেকে এমন হামলা কীভাবে সম্ভব হলো?

এর প্রতিক্রিয়ায় ৮ অক্টোবর থেকে ইজরায়েল গাজায় পরিকল্পিত গণহত্যা শুরু করে। গণহত্যার পক্ষে বৈধতা তৈরি করতে ইজরায়েল পশ্চিমী মিডিয়ার মাধ্যমে হামাসের বিরুদ্ধে মনগড়া 'খুন, ধর্ষণ ও নৃশংসতা'র রোমহর্ষক প্রচার চালায়, যা পরে প্রমাণের অভাবে নাকচ হলেও আন্তর্জাতিক মহলে গণহত্যার পক্ষে প্রাথমিক বৈধতা তৈরি করে দেয়।
১৯৪৮ সালে ইউরোপ-আমেরিকার শ্বেতাঙ্গ ইহুদিদের খুশি করতে পশ্চিমা বিশ্ব ইজরায়েলকে রাষ্ট্রের মর্যাদা দেয়। ১৯৪৮-১৯৫০-এর মধ্যে তৎকালীন প্যালেস্তাইনের প্রধান অঞ্চলগুলি থেকে সাড়ে ৭ লক্ষ মূলনিবাসী প্যালেস্তিনীয়কে গায়ের জোরে উচ্ছেদ করা হয়। এই প্রক্রিয়াতেই অন্তত ১৭ হাজার মানুষ নিহত হন। মূলনিবাসীদের সম্পত্তি দখল করে ইজরায়েল রাষ্ট্র গঠন করা হয়। এই ঘটনাকে প্যালেস্তিনীয়রা 'নাকবা' বা 'মহা বিপর্যয়' বলে অভিহিত করে। উচ্ছেদ হওয়া এই মানুষজন এখনও ছদ্ম 'কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প'-এ রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার বঞ্চিত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। পশ্চিম এশিয়ায় ‘ক্ষমতার ভারসাম্য’ ধরে রাখার নাম করে, ইজরায়েলের এই নরখাদক প্রবৃত্তিকে মদত জুগিয়ে চলেছে আমেরিকা। ১৯৪৮ থেকে ২০২৫-র মধ্যে এক হিসাবে অন্তত দেড় থেকে দুই লক্ষ প্যালেস্তিনীয় মানুষ ইজরায়েলী সেনার হামলায় নিহত হয়েছেন।

ইজরায়েলী দখলদারির বিরুদ্ধে বিক্ষিপ্ত প্রতিরোধ প্রথমে গণআন্দোলন 'ইন্তিফাদা'র (অভ্যুত্থান) রূপ নেয়। ১৯৮৭ থেকে চার বছরের টানা আন্দোলনের পর ইজরায়েল ১৯৯৩ সালের ওসলো চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়। এই চুক্তিতে ১৯৬৭-র অধিকৃত অঞ্চলে প্যালেস্তিনীয়দের স্বায়ত্তশাসন এবং ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক ও গাজায় 'প্যালেস্তাইনের জাতীয় কর্তৃপক্ষ'-কে অসামরিক প্রশাসনিক ক্ষমতা হস্তান্তরের স্বীকৃতি দেওয়া হয়, এবং ভবিষ্যতে স্বাধীন রাষ্ট্রের আশ্বাস দেওয়া হয়।
ইজরায়েল কখনই এই চুক্তি মানেনি। তারা প্যালেস্তিনীয় স্বায়ত্তশাসনকে দুর্বল করতে ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক চরিত্র ধ্বংসের চেষ্টা করে। ইজরায়েল প্যালেস্তিনীয়দের মধ্যে হামাস সহ বিভিন্ন ধর্মীয় মৌলবাদী শক্তিকে মদত জোগায়। এই গোষ্ঠীগুলি ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলির সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। ওয়েস্ট ব্যাঙ্কে ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলির প্রভাব থাকলেও, গাজায় হামাস ক্ষমতা বাড়ায়।
ওসলো চুক্তির তোয়াক্কা না করে ইজরায়েল ওয়েস্ট ব্যাঙ্কে সামরিক দখলদারি শুরু করে এবং মারওয়ান বারঘুতি ও আহমেদ সাদাতের মতো হাজার হাজার প্যালেস্তিনীয় রাজনীতিবিদকে আটক করে। 
২০০৬ সালের আইনসভার ভোটে বামপন্থী দলগুলির গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের ইজরায়েল বন্দি করার পর, হামাস সর্বাধিক আসন পেয়ে গাজায় প্রশাসনিক ক্ষমতা লাভ করে। হামাসের এই দাপট বাড়ানোর পেছনে ইজরায়েলের সমর্থন ছিল। ২০০৮ সালে ইজরায়েল হঠাৎ 'সন্ত্রাস দমনের' নামে একসময়কার দোসর হামাসের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। এসময় থেকেই ইজরায়েল গাজায় অনবরত হামলা ও সামরিক ঘেরাও বজায় রেখেছে।
ইজরায়েলই বর্তমান বিশ্বের একমাত্র অবশিষ্ট ঔপনিবেশিক ও জাতিবিদ্বেষী রাষ্ট্র। তাদের এই ঔপনিবেশিকতা কায়েমে সাহস জোগায় আমরিকা। 'ক্ষমতার ভারসাম্যে' আমেরিকা তাদের কোটি কোটি ডলার অনুদান ও মদত জুগিয়ে চলেছে।

গণহত্যার ‘লাইভ টেলিকাস্ট’
৭৭ বছর ধরে চলা এই সংঘাত হলো ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে মুক্তিকামী প্যালেস্তিনীয়দের লড়াই। ইজরায়েল ও পশ্চিমী মিডিয়া বারবার এটিকে ৭ অক্টোবর ২০২৩ থেকে শুরু হওয়া হামাসের আক্রমণ এবং ইজরায়েলের 'অস্তিত্ব রক্ষার প্রত্যাঘাত' বলে দাবি করেছে। তবে বিশ্বজুড়ে মানুষ এই মিথ্যা প্রত্যাখ্যান করেছে, যার প্রমাণ হলো ২০২৩ সাল থেকে দেশে দেশে যুদ্ধ ও গণহত্যা বিরোধী তীব্র আন্দোলন।
অক্টোবর ২০২৩ থেকে শুরু হওয়া এই হত্যাকাণ্ড আধুনিক ইতিহাসের এক বিরল অধ্যায়, কারণ এটি সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে প্রথম 'লাইভ টেলিকাস্ট' হওয়া গণহত্যা। বিশ্বের মানুষ সরাসরি দেখেছে যে গণহত্যায় লিপ্তদের কাছে শিশু, মহিলা, বৃদ্ধের কোনও ভেদাভেদ নেই। এই দৃশ্যমানতার কারণেই ইজরায়েলের গণহত্যার বিরুদ্ধে নজিরবিহীন বিশ্বজনমত ও আন্দোলন গড়ে উঠেছে, যা প্রথাগত রাজনীতির বাইরে গিয়ে বৃহত্তর মানবতার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই ঘটনাগুলি একাধিক সত্য বিশ্বের সামনে উন্মোচন করেছে। ঔপনিবেশিক রাষ্ট্র হিসাবে ইজরায়েলের বৈধতা এবং তার গণহত্যার প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ আন্তর্জাতিক স্তরেই সৃষ্টি হয়েছে। স্বাধীন প্যালেস্তাইনের পক্ষে আন্তর্জাতিক মত আরও বলিষ্ঠ হয়েছে। এই প্রথম বিশ্ববাসি প্রত্যক্ষ করছে, একটি পরিকল্পিত গণহত্যাকে আড়াল করতেও 'রাষ্ট্রের আত্মরক্ষার অধিকার' যুক্তি খাড়া করা যায়, শিশুহত্যাকে 'প্রয়োজনীয়' বলে দাবি করা যায় এবং প্রতিবাদকারীদের 'সন্ত্রাসবাদী' তকমা দেওয়া যায়। তথাকথিত 'উদার গণতন্ত্রের ধ্বজাধারী' পশ্চিমী মিডিয়া ও নাগরিক সমাজ যে কোনও রাখঢাক ছাড়া এই গণহত্যার সমর্থন করতে পারে, সেটাও নগ্নভাবে প্রকাশিত হয়েছে। এই 'লাইভ টেলিকাস্ট' শুধু ইজরায়েলের সত্যতা নয়, বরং নিজেদের 'উদার ও নীতিবাগীশ' বলে পরিচয় দেওয়া বহু মানুষের মুখোশও খুলে দিয়েছে।  

তবে এসবের মধ্যেও গাজা গণহত্যার বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভ-আন্দোলন, কয়েক দশক ধরে ঝিমিয়ে পড়া আন্তর্জাতিক সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংহতিতে নতুন উদ্যম এনেছে। সোভিয়েতের পতন এবং একমেরুর বিশ্ব প্রতিষ্ঠা হওয়ায় অনেকেই মনে করে, আন্তর্জাতিকতাবাদের দিন শেষ—বিশ্বায়নের যুগ শুরু! গণহত্যা ও যুদ্ধ বিরোধী আন্দোলন সাড়ে তিন দশকের এই জড়তা ভেঙে দিয়েছে। এক নতুন, বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিকতাবাদের উত্থান দেখা গিয়েছে। ভিয়েতনামের যুদ্ধ বিরোধী আন্দোলনে ও ইরাক যুদ্ধের পর আমোরিকার নিউ ইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং শিকাগোর মতো শহরে সবচেয়ে বড় কয়েকটা বিক্ষোভ দেখা গেছে। হার্ভার্ড, কলাম্বিয়া, ইউসিএলএ এবং বিভিন্ন স্টেট ইউনিভার্সিটি সহ কয়েক ডজন ক্যাম্পাসে ছাত্র বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিক ইউনিয়ন, স্বাস্থ্যকর্মী এবং ইহুদি যুদ্ধবিরোধী সংগঠনগুলি গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নামে। ব্রিটেনের লন্ডন, বার্মিংহামের মতো নানা শহরে লক্ষ লক্ষ মানুষ রাস্তায় নামেন। ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন, নানা ধর্মীয় গোষ্ঠী, অভিবাসী সম্প্রদায় থেকে শিক্ষাবিদরা স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দাবিতে প্রতিবাদে অংশ নেন। আমেরিকায় ডোনাল্ড ট্রাম্প রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর থেকে গাজা গণহত্যার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখানোর অপরাধে অসংখ্য মানুষকে ‘হামাস ঘনিষ্ঠ’ এবং ‘সন্ত্রাসবাদী’ তকমা দিয়ে আটক করা হয়েছে। কলোম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৪ জন অভিবাসী ছাত্রের ভিসা বাতিল করে, তাঁদের দেশছাড়া করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। ব্রিটেনে গণহত্যার প্রতিবাদ করায় ‘প্যালেস্তাইন অ্যাকশন’ নামের এক যুদ্ধবিরোধী সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এক রাতে অন্তত ৮০০ জনকে ‘সন্ত্রাস দমন আইনে’ গ্রেপ্তার করা হয়।

ইউরোপ জুড়ে, ব্রিটেন, ফ্রান্স, স্পেন, বেলজিয়াম, আয়ারল্যান্ড, জার্মানি, ইতালি এবং নেদারল্যান্ডসের বিক্ষোভগুলি বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে প্রতিফলিত করে। বিশেষ করে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন সংহতির এক সোচ্চার কেন্দ্রে পরিণত হয়। অন্যদিকে স্পেনের সিটি কাউন্সিলগুলি ইজরায়েলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়ে প্রতীকী প্রস্তাব পাশ করে। জার্মানির সরকারের ইজরায়েল বশ্যতার জেরে গণহত্যা বিরোধী বিক্ষোভে বেনজির পুলিশি হামলার ঘটনা ঘটে। একই ভাবে ফ্রান্সেও বহু সমাবেশ নিষিদ্ধ হয়।
শুধু জনমত গড়াই নয়, গণহত্যা ও যুদ্ধ বিরোধী আন্দোলন পশ্চিমী বিশ্বের রাজনৈতিক বিশেষ করে নির্বাচনী পটভূমিতেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলেছে। প্যালেস্তাইনের পক্ষে জনমতের চাপে এই সময়কালে বহু পশ্চিমী দেশ প্যালেস্তাইনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের মর্যাদা দিতে বাধ্য হয়েছে। ২০২৩ থেকে ২০২৪-র মধ্যে আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে, স্পেন, ব্রিটেন, কানাডা, ফ্রান্স অস্ট্রেলিয়া ও পর্তুগাল প্যালেস্তাইন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়েছে জমমতের চাপে। নির্বাচনী রাজনীতিতেও প্যালেস্তাইন ও গাজা গণহত্যা প্রভাব ফেলেছে। নিউ ইয়র্কের প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত, মুসলিম, ‘বামপন্থী’ মেয়র হিসাবে জোহরান মামদানির নির্বাচিত হওয়া তার মধ্যে অন্যতম। এই সময়কালে হওয়া নানা সমীক্ষা বলছে, পশ্চিম ইউরোপের ৬৭ শতাংশ এবং আমেরিকার ৫৯ শতাংশ মানুষ বর্তমানে স্বাধীন প্যালেস্তাইন রাষ্ট্রের পক্ষে। 

তবে সব থেকে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ উঠে এসেছে উন্নয়নশীল বিশ্ব থেকে। পশ্চিম ও উত্তর আফ্রিকায় জর্ডান, মিশর, তিউনিসিয়া, মরক্কো, লেবানন এবং তুরস্কের বিক্ষোভে কয়েক লক্ষ মানুষ অংশ নেন। একদিকে প্যালেস্তাইনের নিরীহ মানুষের যন্ত্রণা, অন্যদিকে ইজরায়েলের প্রতি পশ্চিমী সাম্রাজ্যবাদী বলয়ের সমর্থনের তীব্র বিরোধিতায় বিক্ষোভ নামেন তৃতীয় বিশ্বের জনগণ। এক জাতি-বিদ্বেষী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়ে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনা দক্ষিণ আফ্রিকার জনগণ, শুধু গণবিক্ষোভেই সীমিত থাকেনি। দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার গাজা গণহত্যার দায়ে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতে মামলা দায়ের করে এবং সেই মামলায় আদালত ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানেয়াহু ও প্রাক্তন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়োভ গালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। ফলে, বিশ্বের ১২৫টি দেশের দরজা নেতানেয়াহুর জন্য এখন বন্ধ। লাতিন আমেরিকা জুড়ে চিলি, কলম্বিয়া থেকে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা পর্যন্ত, ছাত্র ইউনিয়ন, আদিবাসী সংগঠন এবং বামপন্থী দলগুলি বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেয়। 

গণহত্যা বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গেই জুড়ে যায় পুঁজিবাদ বিরোধী আন্দোলন। গাজা গণহত্যা ও ইজরায়েল-প্যালেস্তাইন সংঘাতে কোন কোন বহুজাতিক সংস্থা মুনাফা করছে তাঁর পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাবনিকেশ প্রকাশ করে রাষ্ট্রসঙ্ঘ। এই রিপোর্টে দেখা যায়, আমাদের নিত্যদিনে ব্যবহার্য নানা পণ্যে কোনও না কোনোভাবে প্যালেস্তাইনের মানুষের রক্ত লেগে আছে! আমাজন, ওয়ালমার্ট, গুগল, অ্যাপেল, ম্যাকডোনাল্ডস, কোকা কোলার মতো নানা সংস্থা গাজা গণহত্যার সুযোগ নিয়ে মুনাফা বাড়িয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দুনিয়াজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ‘বয়কট, ডাইভেস্টমেন্ট, স্যাংশান্স’ আন্দোলন। তথাকথিত উদার গণতন্ত্রের দ্বৈততা উন্মোচিত হলেও, এই নগ্ন সাম্রাজ্যবাদের সামনে মানুষ আজ একজোট।
প্যালেস্তিনীয়দের এই নিরন্তর সংগ্রাম এবং মুক্তির প্রত্যয় ধ্বনিত হয়েছে কবি মাহমুদ দারউইশ-এর কলমে -
"আর আমাদের জন্য, মৃত্যুর পরে, বিজয়ের এক বাগান হবে।
আর এক দিন সেই জমিতেই আমরা ফিরব।
আমরা আসব, এক মুক্ত বাতাস, যা পাথরের ফাটলগুলিতেও প্রবেশ করে।
আমরা আসব, যেন এক সূর্য, যা আমাদের মরুভূমিকেও উষ্ণ করে তোলে।"
মাহমুদ দারউইশ, ভাবানুবাদ

গণশাক্তি পত্রিকায় প্রকাশিত
প্রকাশ: ২৯-নভেম্বর-২০২৫

আপনার মতামত

এই লেখাটি সম্বন্ধে আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।

This Is CAPTCHA Image

শেষ এডিট:: 29-Nov-25 08:46 | by 3
Permalink: https://cpimwestbengal.org/the-21st-century-holocaust
Categories: Current Affairs
Tags: donaldtrump, israel-palestine conflict, free palestine
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:



লেখক/কিওয়ার্ড