গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে পশ্চিমবঙ্গের জনসাধারণের প্রতি সংহতি জানাল পলিট ব্যুরো

Author
পলিট ব্যুরো

এই পরিস্থিতি নির্বাচনকে এক নির্মম পরিহাসের বিষয়ে পর্যবসিত করেছে।

Solidarity with the People of WB: PB Statement

১২ই জুলাই, ২০২৩- বুধবার

ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)-র পলিট ব্যুরোর বিবৃতি -

পশ্চিমবঙ্গে ত্রি-স্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে জনগণের মতামতকে প্রভাবিত করতে ভোট গণনায় যা ঘটছে তাতে সিপিআই(এম)-র পলিট ব্যুরো ক্ষোভ প্রকাশ করছে। শাসক দলের সাথে একাত্ম হয়ে কাজ করছে রাজ্য প্রশাসন এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশন। জনগণের মতামতকে ব্যাপক আকারে বদলে দেওয়া হচ্ছে, নির্বাচন কমিশনের তরফে ঘোষিত কোনও নির্দেশই পালিত হচ্ছে না। এমনকি হাইকোর্টের নির্দেশকেও সরাসরি অমান্য করা হয়েছে।

ভাঙ্গড়ে জেলা পরিষদের একটি আসনে বামেদের সমর্থনে আইএসএফ দলের প্রার্থী ব্যপক মার্জিনে জয়লাভ করেছেন। অথচ সেই ফল প্রকাশ না করে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীকেই জয়ী ঘোষণা করে দেওয়া হয়। এতে জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়। জনরোষ প্রতিহত করতে মিছিলের উপর পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালালে চারজনের মৃত্যু হয়। এর পরেই এলাকা জুড়ে পুলিশ ভয়াবহ সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করে, গোটা এলাকাকেই কার্যত বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে।

ভাঙ্গড়ের এমন ঘটনাই প্রমান করে দেয় কিভাবে নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করা চলছে। গণনার সময় রাজ্য নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছিল। ফলাফল বদলে দিতে ইচ্ছাকৃত গণনা প্রক্রিয়াকে ধীর করা হয়েছে। পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদের ফলাফলের কোনও বৈধতাই নেই। ঐ আসনগুলিতে গণনার সময় গণনাকেন্দ্রগুলি থেকে বাম ও অন্যান্য গনতান্ত্রিক দলসমূহের প্রতিনিধিদের বের করে দেওয়া হয়, গণনা চালানো হয় রাতে। বহু ব্যালট যেখানে সিপিআই(এম)-র পক্ষে ষ্ট্যাম্প রয়েছে সেসব ছুঁড়ে বাইরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল, গণনাকেন্দ্রের বাইরে সেইসব ব্যালট পড়ে থাকতে দেখা গেছে। বোঝাই যাচ্ছে গণনার সময় ঐ সমস্ত ব্যালটগুলিকে গ্রাহ্যই করা হয়নি।

গণনাকেন্দ্রে যে কায়দায় কারচুপি চলেছে তাতে স্পষ্ট ফলাফলের চিত্রে যেন-তেন-প্রকারেণ বিজেপি’কে দ্বিতীয় স্থানে তুলে আনাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। এই ফলাফলের সাথে বাস্তব পরিস্থিতির কোনও সম্পর্ক নেই।

এই পরিস্থিতি নির্বাচনকে এক নির্মম পরিহাসের বিষয়ে পর্যবসিত করেছে। কলকাতা হাইকোর্ট আজ একটি অন্তর্বর্তী নির্দেশের মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণায় স্থগিতাদেশ জারী করেছে।

তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি'র বিরুদ্ধে এই লড়াই কার্যত বাঁচা-মরার সংগ্রামে পরিণত হয়েছে। সেই সংগ্রামে রাজ্যের বাম, কংগ্রেস, আইএসএফ সহ ধর্মনিরপেক্ষ ও গনতান্ত্রিক অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তিসমুহের প্রতি সংহতি জানাচ্ছে পার্টির পলিট ব্যুরো। পশ্চিমবঙ্গ আজ এক ভয়াবহ সন্ধিক্ষণের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে লড়াই করছে, গনতান্ত্রিক মূল্যবোধের পক্ষে থাকা দেশের সমস্ত মানুষকে সেই সংগ্রামের পাশে থাকার আহ্বান জানাচ্ছে সিপিআই(এম)-র পলিট ব্যুরো।


প্রকাশ: ১২-জুলাই-২০২৩

১২ই জুলাই, ২০২৩- বুধবার

ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)-র পলিট ব্যুরোর বিবৃতি -

পশ্চিমবঙ্গে ত্রি-স্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে জনগণের মতামতকে প্রভাবিত করতে ভোট গণনায় যা ঘটছে তাতে সিপিআই(এম)-র পলিট ব্যুরো ক্ষোভ প্রকাশ করছে। শাসক দলের সাথে একাত্ম হয়ে কাজ করছে রাজ্য প্রশাসন এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশন। জনগণের মতামতকে ব্যাপক আকারে বদলে দেওয়া হচ্ছে, নির্বাচন কমিশনের তরফে ঘোষিত কোনও নির্দেশই পালিত হচ্ছে না। এমনকি হাইকোর্টের নির্দেশকেও সরাসরি অমান্য করা হয়েছে।

ভাঙ্গড়ে জেলা পরিষদের একটি আসনে বামেদের সমর্থনে আইএসএফ দলের প্রার্থী ব্যপক মার্জিনে জয়লাভ করেছেন। অথচ সেই ফল প্রকাশ না করে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীকেই জয়ী ঘোষণা করে দেওয়া হয়। এতে জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়। জনরোষ প্রতিহত করতে মিছিলের উপর পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালালে চারজনের মৃত্যু হয়। এর পরেই এলাকা জুড়ে পুলিশ ভয়াবহ সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করে, গোটা এলাকাকেই কার্যত বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে।

ভাঙ্গড়ের এমন ঘটনাই প্রমান করে দেয় কিভাবে নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করা চলছে। গণনার সময় রাজ্য নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছিল। ফলাফল বদলে দিতে ইচ্ছাকৃত গণনা প্রক্রিয়াকে ধীর করা হয়েছে। পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদের ফলাফলের কোনও বৈধতাই নেই। ঐ আসনগুলিতে গণনার সময় গণনাকেন্দ্রগুলি থেকে বাম ও অন্যান্য গনতান্ত্রিক দলসমূহের প্রতিনিধিদের বের করে দেওয়া হয়, গণনা চালানো হয় রাতে। বহু ব্যালট যেখানে সিপিআই(এম)-র পক্ষে ষ্ট্যাম্প রয়েছে সেসব ছুঁড়ে বাইরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল, গণনাকেন্দ্রের বাইরে সেইসব ব্যালট পড়ে থাকতে দেখা গেছে। বোঝাই যাচ্ছে গণনার সময় ঐ সমস্ত ব্যালটগুলিকে গ্রাহ্যই করা হয়নি।

গণনাকেন্দ্রে যে কায়দায় কারচুপি চলেছে তাতে স্পষ্ট ফলাফলের চিত্রে যেন-তেন-প্রকারেণ বিজেপি’কে দ্বিতীয় স্থানে তুলে আনাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। এই ফলাফলের সাথে বাস্তব পরিস্থিতির কোনও সম্পর্ক নেই।

এই পরিস্থিতি নির্বাচনকে এক নির্মম পরিহাসের বিষয়ে পর্যবসিত করেছে। কলকাতা হাইকোর্ট আজ একটি অন্তর্বর্তী নির্দেশের মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণায় স্থগিতাদেশ জারী করেছে।

তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি'র বিরুদ্ধে এই লড়াই কার্যত বাঁচা-মরার সংগ্রামে পরিণত হয়েছে। সেই সংগ্রামে রাজ্যের বাম, কংগ্রেস, আইএসএফ সহ ধর্মনিরপেক্ষ ও গনতান্ত্রিক অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তিসমুহের প্রতি সংহতি জানাচ্ছে পার্টির পলিট ব্যুরো। পশ্চিমবঙ্গ আজ এক ভয়াবহ সন্ধিক্ষণের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে লড়াই করছে, গনতান্ত্রিক মূল্যবোধের পক্ষে থাকা দেশের সমস্ত মানুষকে সেই সংগ্রামের পাশে থাকার আহ্বান জানাচ্ছে সিপিআই(এম)-র পলিট ব্যুরো।

আপনার মতামত

এই লেখাটি সম্বন্ধে আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।

This Is CAPTCHA Image

শেষ এডিট:: 12-Jul-23 22:46 | by 2
Permalink: https://cpimwestbengal.org/solidarity-with-the-people-of-wb-pb-statement
Categories: Press Release
Tags: #chortmc, democracy, panchayatelection, tmc bjp, tmc terror, west bengal panchayat election
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:



লেখক/কিওয়ার্ড