সঙ্ঘ নারী সংগ্রাম - ১২

Author
চন্দন দাস

আর্থিক, সামাজিক ভাবে পিছিয়ে থাকা অংশের নারীদের কাজের দাবি জোরালো হয়ে উঠছে। নারী নির্যাতনের ঘটনাগুলিকে এই সময় সংবেদনশীলতার সঙ্গে বিচার করা, দুর্বৃত্তদের আড়াল না করে দ্রুত কড়া শাস্তির ব্যবস্থা করা শাসকের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। অবশ্যই সেই শাসককে ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ, গণতন্ত্র এবং সমানাধিকরারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।

Sangh, Women & Struggle (Part XII)

‘‘আপনি রেপ বলবেন, না কি প্রেগনেন্ট বলবেন, না কি লাভ অ্যাফেয়ার বলবেন...নাকি শরীরটা খারাপ ছিল, না কি কেউ ধরে মেরেছে... আমি পুলিশকে বলেছি, ঘটনাটা কী? মেয়েটার নাকি লাভ অ্যাফেয়ার ছিল বলে শুনেছি।’’ ১২এপ্রিল, ২০২২। হাঁসখালিতে ধর্ষিতা হয়েছিলেন এক কিশোরী তার আগে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়। সেদিন মমতা ব্যানার্জি উপরের কথাগুলি বলেছিলেন। সেই ঘটনাতে তৃণমূলের এক পঞ্চায়েত সদস্যর ছেলে অভিযুক্ত ছিল।

নারী নির্যাতনে অভিযুক্ত দুষ্কৃতীদের আড়াল করতে বারবার তৃণমূল নেত্রীর এই ধরণের মন্তব্য শোনা গেছে।

যেমন— ২০১২-র ১৬ফেব্রুয়ারি। পার্ক স্ট্রীটে ধর্ষণ কান্ডের পর পরে মমতা ব্যানার্জি মহাকরণে বলেছিলেন,‘‘সাজানো ঘটনা। সরকারকে হেয়(ম্যালাইন) করার জন্য এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। সব বের হবে।’’ সেদিনই কলকাতা পুলিসের তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার( অপরাধ দমন) দময়ন্তী সেন বলেছিলেন ধর্ষণ হয়েছে। ফলে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল পদ থেকে।

২০১২-র ২৫ফেব্রুয়ারি। কাটোয়ায় চলন্ত ট্রেনে কিশোরী মেয়ের সামনে এক মহিলাকে ধর্ষণের ঘটনাকে ‘ছোট ঘটনা’ বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জি। যদিও সেই ঘটনায় বীরভূমের লাভপুর থেকে দুই শাসক দলের কর্মী গ্রেপ্তার হয়েছিল।

২০১৩-র ১৭ই জুন। কামদুনিতে মমতা ব্যানার্জি গেছিলেন। সেখানে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এক কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুন করেছিল। গ্রামবাসীরা তাঁর সঙ্গে এলাকার দুষ্কৃতী এবং পুলিসী নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে কথা বলতে চাওয়ায় তিনি বলেছিলেন,‘‘চোপ। সব সিপিএম, সব সিপিএম।’’ প্রতিবাদী মহিলাদের বলেছিলেন,‘‘মাওবাদী।’’

‘‘কোন্‌ মহিলাদের টিস করেছে সেটাও খুঁজে দেখতে হবে, তাই না? খুঁজে বের করতে হবে।’’ এক যুবকের নৃশংস খুনের পর মমতা ব্যানার্জি এই কথাগুলি বলেছিলেন। ২০১৫, ৪ ফেব্রুয়ারি। অরূপ ভান্ডারী নামে এক যুবকে হাওড়ার সালকিয়ায় খুন হয়েছিলেন। তৃণমূলীরা তাঁকে পিটিয়ে খুন করে। অভিযোগ ছিল তৃণমূল কর্মীরা এক মহিলাকে অশ্লীল কথা বলেছিলেন। ওই যুবক তার প্রতিবাদ করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী সেদিন সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে উপরের কথাগুলি বলেছিলেন।

১৫ফেব্রুয়ারি, ২০২৪। সন্দেশখালিতে মহিলারা বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। কারণ তৃণমূল নেতা সেখ শাহাজাহানের বাহিনী মাঝরাতে মহিলাদের তৃণমূলের অফিসে ডেকে পাঠাতো। সেখানে নারী নির্যাতন করতো তৃণমূলীরা। সেই অভিযোগ প্রসঙ্গে মমতা ব্যানার্জির বক্তব্য,‘‘কারও কোনও ক্ষোভ বিক্ষোভ থাকতেই পারে। আগে তো আমাকে দেখতে হবে ব্যাপারটা কী?’’

মহিলাদের উপর নির্যাতন সম্পর্কে শাসকের এই ধারণার সঙ্গে হিন্দুত্বর পুনরুত্থানের গভীর সম্পর্ক আছে। সমাজে এমন একটি পরিবেশ সাম্প্রদায়িক শক্তির প্রয়োজন পড়ে যেখানে নারীরা ক্রমাগত কোণঠাসা হন, নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। তাঁরা সেঁধিয়ে যেতে পারেন ঘরে। অথচ দেশের অর্থনীতি এবং সমাজে নারীর শ্রমশক্তি লাগাতার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিশেষত আর্থিক, সামাজিক ভাবে পিছিয়ে থাকা অংশের নারীদের কাজের দাবি জোরালো হয়ে উঠছে। নারী নির্যাতনের ঘটনাগুলিকে এই সময় সংবেদনশীলতার সঙ্গে বিচার করা, দুর্বৃত্তদের আড়াল না করে দ্রুত কড়া শাস্তির ব্যবস্থা করা শাসকের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। অবশ্যই সেই শাসককে ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ, গণতন্ত্র এবং সমানাধিকরারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।

কিন্তু মমতা ব্যানার্জি তা নন। তৃণমূল বরাবর সঙ্ঘের পরিপূরক এই রাজ্যে। পশ্চিমবঙ্গ যাতে কমিউনিস্টদের নেতৃত্বে দেশের গণতান্ত্রিক শক্তির প্রধান ঘাঁটি না হয়ে উঠতে পারে, সেদিকে নজর রাখা সঙ্ঘ-মমতার গুরুতর যৌথ কর্তব্য।

২০ জুন, ২০২২। বিধানসভায় তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী, বর্তমানে দুর্নীতির দায়ে জেলবন্দী পার্থ চ্যাটার্জি একটি দৃষ্টি আকর্ষণী প্রস্তাব উত্থাপন করেন। সেই প্রসঙ্গে ভাষণ দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। বেলা সাড়ে ১২টা থেকে পৌনে ২টো পর্যন্ত। ছিল এক দীর্ঘ ভাষণ। সেখানেই তাঁর মুখ থেকে শোনা যায়,‘‘ধর্ম নিয়ে যদি কেউ পুরাণ, বেদ-বেদান্ত, তপোবন থেকে শুরু করে শৃণ্বন্তু বিশ্বে অমৃতস্য পুত্রা এই সব নিয়ে কথা বলেন আমি তাকে স্যালুট জানাব। কারণ এগুলি ধর্ম নয়, এগুলি ইতিহাস। ধর্মের সাথে ইতিহাসের একটা যোগাযোগ থাকে। আমাদের ভারতবর্ষের ইতিহাস তিনটি ভাগে বিভক্ত। একটা অতীত, একটা মধ্যযুগীয় এবং আর একটা বর্তমান।’’ (Assembly Proceedings, official report, June session, 2022, from 10th June to 24th June, 2022)।

মমতা ব্যানার্জির ইতিহাস জ্ঞান নিশ্চিতভাবেই এখানে আলোচনার বিষয় নয়। কিন্তু পুরাণ, বেদ পৌরাণিক কাহিনী, ইতিহাস নয়। সঙ্ঘ এসবকে ইতিহাস বলে চালানোর চেষ্টা করে। আর ধর্মনিরপেক্ষ, প্রগতিশীল ঐতিহাসিকরা বারবার প্রমাণ করেছেন যে, সঙ্ঘের বক্তব্য ভুল এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ভারতকে হিন্দুরাষ্ট্রে পরিণত করার চক্রান্তের অন্যতম অংশ এই মিথ্যা ইতিহাস নির্মাণ। সঙ্ঘের সেই বিপজ্জনক বক্তব্যই খাস বিধানসভায় প্রচার করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

মমতা ব্যানার্জি পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুত্বর পুনরুত্থানের জমি তৈরি করতে চেয়েছেন। তা করার ক্ষেত্রে কমিউনিস্টরাই প্রধান বাধা।

একটি উদ্ধৃতির দিকে নজর দেওয়া যাক। রাজ্যে আরএসএস-র মুখপত্র স্বস্তিকা। ২০১১-র ২৩শে মে প্রকাশিত স্বস্তিকার সম্পাদকীয়কতে কী লেখা হচ্ছে? সম্পাদকীয়র শিরোনাম ছিল — ‘দুঃশাসনের অবসান’। সেখানে প্রবল হিন্দুত্ববাদীরা লিখেছিলেন — ‘‘অবশেষে দুঃশাসনের অবসান। গত ৩৪ বৎসর ধরিয়া বাংলার বুকের উপর ফ্যাসিবাদী দলতন্ত্রের যে জগদ্দল পাথর চাপিয়া বসিয়াছিল, রাজ্যের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ সেই পাথরকে ছুঁড়িয়া ফেলিয়া দিতে সক্ষম হইয়াছে। আলিমুদ্দিনওয়ালাদের যে ধরাশায়ী করা সম্ভব ইহা লইয়া অনেকেরই সন্দেহ ছিল।...যদিও কমিউনিস্টরা বিজেপিকেই শুধু প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, পয়লা নম্বর শত্রু বলিয়াই মনে করে। ইহা স্বীকার করিতেই হইবে, পশ্চিমবঙ্গের মার্কসবাদী সরকার ও ক্যাডারদের অত্যাচারের প্রতিবাদে দায়িত্বশীল ভূমিকায় অবতীর্ণ হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁহারই নেতৃত্বে তৃণমূল জোটের এই বিরাট জয়।’’ শুধু তাই নয়। উল্লাস প্রকাশ করে মার্কসবাদী দর্শনে আক্রমন করে আরও বলা হলো —‘‘মানুষের মুক্তির নামে মানুষকে ক্রীতদাসে পরিণত করিবার ‘কমিউনিজম’ নামক এমন মিথ্যা দর্শন ও বিজ্ঞান বিশ্বে ইহার পূর্বে কখনও দেখা যায় নাই। সোভিয়েত রাশিয়া হইতে মাও-এর চীন পর্যন্ত ইহার সেই একই বিকৃত চেহারা। মার্কসবাদীরা তত্বগতভাবে যে জাতীয়তাবিরোধী এবং ব্যবহারিক দিক হইতে অসামাজিক — বিশ্বের সাম্প্রতিক ইতিহাসেই তাহা প্রমাণিত।’’

অর্থাৎ মমতা ব্যানার্জির প্রতি স্নেহশীল এই সংগঠনটি কমিউনিস্ট, বামপন্থীদের বিরুদ্ধে সামগ্রিকভাবে খড়্‌গহস্ত। বামফ্রন্ট সরকারকে অপসারিত করতে এরা ২০১১-র আগে থেকেই যাবতীয় সহযোগিতা করে এসেছে মমতা ব্যানার্জিকে। উল্লেখ্য, প্রায় একযুগ আগে ২০০৪-র ১১ই এপ্রিল সিপিআই(এম) তৎকালীন রাজ্য কমিটির সম্পাদক কমরেড অনিল বিশ্বাস মমতা ব্যানার্জি-আরএসএস-র বোঝাপড়া সম্পর্কে বলেছিলেন,‘‘আরএসএস-র পরগাছা হয়ে রাজ্যে কাজ করছে তৃণমূল কংগ্রেস।’’ এখনও রাজ্যে বিজেপিসহ হিন্দুত্ববাদীদের শক্তিবৃদ্ধিতেই পরোক্ষে সহযোগিতা করছেন মমতা ব্যানার্জি।

সঙ্ঘ যে তৃণমূলের পক্ষেই কাজ করে তা বোঝা যায় ২০১৬-র নির্বাচনের পর তাদের বক্তব্যে। সেবার মুখপত্রের প্রচ্ছদ নিবন্ধের শিরোনাম ছিল ‘কমিউনিজমের শোকযাত্রায় শাপমুক্তি বাংলার’। সেখানে লেখা হয়েছিল,‘‘...তৃণমূলের এই জয় সম্ভব হয়েছে স্রেফ জাতিয়তাবাদী ভোটের ফলে।...জাতিয়তাবাদী ভোটাররা অনেকক্ষেত্রেই দেখেছেন যেসব জায়গায় বিজেপি দুর্বল, জেতার সম্ভাবনা ক্ষীণ, সেখানে ঢেলে তাঁরা তৃণমূলের পক্ষে গিয়েছেন। ঠিক যেমনটি হয়েছিল গত বিধানসভা নির্বাচনে।’’

আরএসএস-এর মতোই কমিউনিস্টরা মমতা ব্যানার্জির কাছে প্রধান শত্রু। গোলওয়ালকারের সংগঠন হলো নিখাদ ‘দেশপ্রেমিক’। বন্ধু। কমিউনিস্ট-নিধনে সহায়ক শক্তি। তাই হিন্দুত্ববাদীদের রাজনীতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে মমতা ব্যানার্জি তাদের সহায়ক শক্তি হিসাবেই আবির্ভূত হয়েছেন।

বাবরি মসজিদ ভাঙতে দলে দলে করসেবকরা অযোধ্যায় জড়ো হচ্ছেন, ততক্ষণে সে আশঙ্কার খবর সারা দেশেই ছড়িয়েছিল। সিপিআই(এম) বিজেপি-র সেই মারাত্মক কর্মসূচীর বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছিল। ৪ঠা ডিসেম্বরই সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে জনসভা হয়েছিল বামফ্রন্টের — শহীদ মিনার ময়দানে। সেদিন মমতা ব্যানার্জিও একটি সভা করেছিলেন কলকাতায় — সিধো কানহু ডহরে। তখন তিনি কংগ্রেসে। সেদিন সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে বামপন্থীদের প্রচার সম্পর্কে তৃণমূল নেত্রী বলেছিলেন,‘‘সিপিএম ষড়যন্ত্র করছে।’’ আরো বলেছিলেন,‘‘আসলে সিপিএম যে মিটিং মিছিল করছে, তা ক্যাডারদের জড়ো করার জন্য। আমাদের মহাকরণ অভিযানকে আটকাবার জন্য। ওদের সম্পর্কে তাই সাবধান থাকুন।’’

মনে রাখা জরুরী বাবরি মসজিদ যখন ভাঙছে হিন্দুত্ববাদীরা, মমতা ব্যানার্জি ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে সবচেয়ে দৃঢ় শক্তি কমিউনিস্টদের সরকারকে উৎখাত করতে ‘মহাকরণ অভিযান’-এর প্ল্যান করছেন। উল্লেখ্য, ২০০২-এ গুজরাটে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের সময়ে মমতা ব্যানার্জি কেন্দ্রীয় সরকারের পাশেই ছিলেন। তৎকালীন বাজপেয়ী সরকার মোদীর প্রশাসনের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থাই নেয়নি। তৃণমূল নেত্রী তখন ছিলেন দপ্তরহীন মন্ত্রী। এই সমর্থনের পুরস্কার হিসাবে ২০০৩-এ তিনি বাজপেয়ীর মন্ত্রিসভায় জায়গা পান। আর ওই ২০০৩-র আগস্টের একটি ঘটনা উল্লেখযোগ্য। তখন গুজরাটের গণহত্যার ক্ষত দগদগে হয়ে রয়েছে। মোদীর গুজরাট সরকার যখন ভাবমূর্তি ফেরানোর চেষ্টা করছে, তখন বণিকসভা ফিকির তৎকালীন সেক্রেটারি জেনারেল অমিত মিত্রই দায়িত্ব দিয়েছিলেন আমেরিকা, ইউরোপে গুজরাটের হয়ে প্রদর্শনীর আয়োজন করতে। এখানেই শেষ নয়। নরেন্দ্র মোদীর গুজরাটের প্রচারের জন্য ‘ভাইব্র্যান্ট গুজরাট, রিসার্জেন্ট গুজরাট’-র আয়োজকই হয়েছিলেন তৃণমূল সরকারের প্রথম অর্থমন্ত্রী।

তাই পরম মিত্রকে রাজ্যে তথাকথিত ‘পরিবর্তন’-র পরে মমতা ব্যানার্জিকে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শটি দিয়েছিলেন বিশ্বস্ত স্বয়ংসেবক নরেন্দ্র মোদী — ‘‘প্রথম রাতেই বিড়াল মেরে দিন।’’ অর্থাৎ কমিউনিস্টদের নিধন করুন।

তাই সঙ্ঘ এবং তৃণমূলের প্রধান শত্রু এক-কমিউনিস্টরা, বামপন্থীরা। প্রসঙ্গত, ১৯৪৮-এর জানুয়ারিতে, গান্ধী হত্যায় অভিযুক্ত আরএসএস-কে নিষিদ্ধ করার পরে, ২৪-এ সেপ্টেম্বর সঙ্ঘের তৎকালীন সরসঙ্ঘচালক মহাদেব সদাশিব গোলওয়ালকার তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বল্লভ ভাই প্যাটেলকে কমিউনিস্টদের নিকেশ করার বিষয়ে একটি চিঠি লেখেন। তিনি লিখেছিলেন,‘‘সরকারি ক্ষমতার প্রতিনিধি হিসাবে আপনি এবং সংগঠিত সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি হিসাবে আমি সম্মিলিতভাবে(কমিউনিজমের) এই আপদকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারি। আমি বিদেশী মতবাদের এই তরঙ্গ যা প্রতিবেশী দেশগুলিতে প্রবাহিত হয়েছে তাতে খুবই চিন্তিত হয়ে পড়েছি।’’

সেই প্রতিবেশী দেশ চীনেই আমেরিকার শুল্ক-যুদ্ধের পর ছুটে যেতে হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। তাতে এই দেশে কমিউনিস্টদের সঙ্গে দেশের সংবিধান, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে বিপজ্জনক সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই স্তব্ধ হবে না। ফলে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াইও থাকছে।

অন্তিম পর্ব


প্রকাশ: ০৭-সেপ্টেম্বর-২০২৫

আপনার মতামত

এই লেখাটি সম্বন্ধে আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।

This Is CAPTCHA Image

শেষ এডিট:: 07-Sep-25 18:54 | by 2
Permalink: https://cpimwestbengal.org/sangh-women-struggle-part-xii
Categories: Fact & Figures
Tags: crime against women, democracy, democraticright, rastriyaswayamsevaksangh, women
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:



লেখক/কিওয়ার্ড