যে প্রশ্নে রাষ্ট্র ভয় পায়

শমীক লাহিড়ী
ইতিহাসের এক অদ্ভুত অভ্যাস আছে। সে কখনও প্রথমে লাঠির শব্দ লেখে না। সে প্রথমে লেখে, কেন মানুষ রাস্তায় নেমেছিল। এই গল্পের শুরু তাই যন্তর মন্তরে নয়।

দিল্লিতে রাষ্ট্র এক নতুন পরীক্ষা নিচ্ছে। সেখানে প্রশ্নপত্র নেই, রয়েছে শুধু সরকারের পুলিশের লাঠি। উত্তরপত্র নেই, আছে ছাত্রছাত্রীদের কালশিটে পড়া শরীর। আর পরীক্ষক বিজেপি সরকারের পাঠানো উন্মত্ত পুলিশ।
২০ জুলাই যন্তর মন্তরের বাতাসে কাঁদানে গ্যাসের ধোঁয়া মিশে যাচ্ছিল সেই স্বপ্নগুলোর সঙ্গে, যে স্বপ্নগুলো সাদা অ্যাপ্রন পরতে চেয়েছিল, গবেষণাগারে দাঁড়াতে চেয়েছিল, শিক্ষক হতে চেয়েছিল, অথবা শুধু একটা সরকারি চাকরি চেয়েছিল। লাঠির আঘাত পড়েছে শরীরে, কিন্তু তার প্রতিধ্বনি পৌঁছেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে, গ্রামের কাঁচা বাড়িতে, কোচিং সেন্টারের ভিড়ে, মধ্যবিত্ত সংসারের নীরব বাড়িতে।
ইতিহাসের এক অদ্ভুত অভ্যাস আছে। সে কখনও প্রথমে লাঠির শব্দ লেখে না। সে প্রথমে লেখে, কেন মানুষ রাস্তায় নেমেছিল। এই গল্পের শুরু তাই যন্তর মন্তরে নয়।
শুরু সেই দিন, যখন লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী বিশ্বাস করত — পরিশ্রমের কোনও শর্টকাট নেই। তারপর একদিন তারা শুনল, প্রশ্নপত্রের কিন্তু আছে।
NEET-UG-কে ঘিরে প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষা পরিচালনা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, গ্রেস মার্কস বিতর্ক এবং তদন্ত ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকে গভীর প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। বিষয়টা সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। কেন্দ্রীয় সরকার CBI-কে তদন্তের দায়িত্ব দেয়। আদালত শেষ পর্যন্ত গোটা পরীক্ষা বাতিল করেনি, কারণ দেশব্যাপী সমগ্র পরীক্ষা প্রক্রিয়া দূষিত হয়েছে, এমন পর্যাপ্ত প্রমাণ আদালতের সামনে ‘সরকারের তোতাপাখী’ সিবিআই পেশ করতে চায়নি বা করেনি। তবে কিছু কেন্দ্রে প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের বাস্তবতা অস্বীকার করতে পারেনি সিবিআই, সরকারকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেও।
আদালতের রায় আইনের উত্তর হতে পারে, কিন্তু মানুষের ক্ষোভের উত্তর নয়। তাই যন্তর মন্তরে শুধু একটা পরীক্ষার বিচার চলছে না। বিচার চলছে রাষ্ট্রের নৈতিকতার।
বিরোধী রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন এবং বহু শিক্ষাবিদ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেছেন। তাঁদের কথা — মন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস না করে থাকলেও, দেশের বৃহত্তম প্রবেশিকা পরীক্ষাকে ঘিরে এমন গভীর আস্থার সংকট প্রতি বছরই তৈরি হলে নিজের দায়বদ্ধতা এড়ানো যায় না। সরকার অবশ্য দাবি করেছে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সুরক্ষিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
কিন্তু যন্তর মন্তরে দাঁড়ানো তরুণদের কাছে প্রশ্নটা আরও সহজ। ‘আমাদের স্বপ্ন - পরিশ্রমের নিরাপত্তা কে দেবে?’ সরকার উত্তর দিল ফ্যাসিস্টদের ভাষায়। লাঠি। কাঁদানে গ্যাস। আটক। যারা শান্তিপূর্ণভাবে অনশনে বসেছিল, তাদের ছত্রভঙ্গ করা। আহত পাঁচ শতাধিক, গ্রেপ্তার ১০০০ এর বেশি।
এই দৃশ্য নতুন নয়। ভারতের ইতিহাসে প্রতিবাদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বহুবার ঘটেছে। কিন্তু প্রতিবারই একটি প্রশ্ন ফিরে এসেছে — রাষ্ট্র কি নাগরিকের কণ্ঠের সঙ্গে কথা বলবে, নাকি কেবল তার ভিড়কে নিয়ন্ত্রণ করবে? অতীতে অন্তত রাষ্ট্র খানিকটা নৈতিক অস্বস্তি অনুভব করত। আজ সেই অস্বস্তির জায়গাটাই যেন ক্রমশ উধাও হয়ে যাচ্ছে। ক্যামেরার সামনে শান্তিপূর্ণ ছাত্রদের চুল ধরে টেনে নিয়ে যাওয়া, মাটিতে ফেলে বুটের আঘাত, মেয়েদের ধাক্কা মেরে পুলিশ ভ্যানে তোলা, নিষিদ্ধ প্যালেট বুলেট চালানো, কাঁদানে গ্যাসে ভরে দেওয়া প্রতিবাদস্থল — সবকিছুই যেন প্রশাসনিক 'স্বাভাবিকতা' হিসেবে প্রতিষ্ঠিা করার চেষ্টা চলছে। রাষ্ট্র যখন নাগরিককে প্রতিপক্ষ বলে ভাবতে শুরু করে, তখন পুলিশের লাঠি শুধু শরীর ভাঙে না, সংবিধানের নাগরিক-রাষ্ট্র সম্পর্ককেও ক্ষতবিক্ষত করে।
কিন্তু লাঠির একটা সীমাবদ্ধতা আছে। সে একটা মিছিল ভাঙতে পারে, কিন্তু প্রশ্নকে নয়। দিল্লির সেই ছবিগুলো কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে দেশের নানা প্রান্তে। কলকাতা, তিরুবনন্তপুরম, চেন্নাই, হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু, পাটনা, লখনউ, চণ্ডীগড়, গুয়াহাটি, ভুবনেশ্বর — একের পর এক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও ছাত্রাবাসে প্রতিবাদ শুরু হয়। কোথাও মোমবাতি মিছিল, কোথাও মানববন্ধন, কোথাও অবস্থান-বিক্ষোভ। ছাত্ররা বুঝিয়ে দিল, যন্তর মন্তর কোনও ভৌগোলিক স্থান নয়; এ আজ দেশের প্রতিটি ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে থাকা লড়াইয়ের প্রতীক — যেখানে ন্যায় বিচার ও ভবিষ্যতের প্রশ্ন একসঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে।
এই প্রশ্ন আরও তীব্র হয়ে ওঠে যখন লাদাখের পরিবেশ ও সাংবিধানিক অধিকার আন্দোলনের মুখ সোনম ওয়াংচুককে অনশন কর্মসূচি চলাকালীন পুলিশ ভোরের আবছা আলোয় কিডন্যাপারদের কায়দায় জোর করে তুলে নিয়ে যায়। প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজ এবং ছবিগুলোই তার জ্বাজ্বল্যমান প্রমাণ। এটা আসলে একজন প্রতিবাদী নাগরিককে নীরব করার প্রচেষ্টা। একজন অনশনকারীকে ঘিরে বহু পুলিশকর্মী। ইতিহাস এই ছবিকে দীর্ঘদিন মনে রাখবে - ‘সবকুছ ইয়াদ রাখা জায়গা’।
গান্ধীর দেশ বহু অনশন দেখেছে। কিন্তু অনশনকে ভয় পাওয়া রাষ্ট্র খুব বেশি দেখেনি।
এই আন্দোলন শুধু ছাত্রদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। দেশের বহু বিশিষ্ট শিল্পী, সাহিত্যিক, চলচ্চিত্রকার, সংগীতশিল্পী, বিজ্ঞানী, অবসরপ্রাপ্ত আমলা, বিচারপতি এবং শিক্ষাবিদ প্রকাশ্যে ছাত্রদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য একটাই — যে সরকার নিজের তরুণ প্রজন্মের ন্যায্য প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে না, অথচ তাদের কণ্ঠস্বর দমনে পুলিশি শক্তির ওপর নির্ভর করে, সেই সরকার গণতন্ত্রের নৈতিক ভিত্তিকেই দুর্বল করে। মতাদর্শ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু শিক্ষার সততা এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার কোনও দলীয় প্রশ্ন নয়; এটা সংবিধানের প্রশ্ন।
সোনম ওয়াংচুককে সরিয়ে দেওয়ার পর আন্দোলন থামেনি। বরং নতুন করে অনশনে বসেছেন এসএফআই নেত্রী, প্রতিবাদের মুখ ঐশী ঘোষ, এসএফআই-এর জাতীয় সভাপতি আদর্শ শাজি সহ বহু তরুণ-তরুণী। আর আইসা নেত্রী জেএনইউ-এর গবেষক ছাত্রী নেহা বোরা তো সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে একসঙ্গেই অনশন শুরু করেছিলেন। যেন তাঁরা বলতে চাইলেন — একজনকে সরিয়ে দিলে প্রশ্নগুলো কিন্তু সরে যায় না। প্রশ্ন বাতাসের মতো। তাকে গ্রেপ্তার করা যায় না।
যন্তর মন্তরে সেদিন শুধু ছাত্র ছিল না। ছিল কৃষকের সন্তান। ছিল শ্রমিকের সন্তান। ছিল সেই মেয়েটি, যার বাবা এখনও বিশ্বাস করেন, ডাক্তারি পড়া মানে পুরো পরিবারের ভাগ্য বদলে যাওয়া। ছিল সেই ছেলেটি, যে জানে, আরও এক বছর কোচিং-এ পড়ার টাকা বাড়িতে নেই। একটা প্রশ্নপত্র তাদের কাছে এক টুকরো কাগজ নয়। তাদের মায়ের বিক্রি হয়ে যাওয়া গয়না। বাবার ওভারটাইম। বন্ধক রাখা জমি। মধ্যবিত্ত পরিবারের ভবিষ্যৎ।
এই কারণেই প্রশ্নপত্র ফাঁস কেবল একটি ফৌজদারি অপরাধ নয়। এটি সামাজিক বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অপরাধ।
এই প্রশ্নেই বামপন্থী ছাত্র-যুব সংগঠনগুলির উপস্থিতি তাৎপর্যপূর্ণ। এসএফআই সহ বামপন্থী ছাত্র সংগঠনসমূহ এবং বিভিন্ন শিক্ষক, শ্রমিক ও কৃষক সংগঠন বহুদিন ধরেই বলে আসছে — শিক্ষা যদি বাজারের যুক্তিতে পরিচালিত হয়, তবে একদিন মেধাও বাজারের পণ্যে পরিণত হবে। এটা অস্বীকার করা কঠিন যে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সরকারি নিয়োগ এবং সামাজিক বৈষম্যের প্রশ্নে তারা ধারাবাহিকভাবে রাস্তায় থেকেছে।
বামপন্থা শুধু একটা মতবাদ নয়। তার সঙ্গে হাঁটে বেকারত্বের পরিসংখ্যান। হাঁটে বন্ধ হয়ে যাওয়া স্কুলের স্মৃতি। হাঁটে কমে যাওয়া গবেষণা অনুদানের উদ্বেগ। হাঁটে সেই পরিবারগুলোর দীর্ঘশ্বাস, যারা এখনও বিশ্বাস করে — শিক্ষা ব্যবসা নয়, অধিকার। হাঁটে প্রতিবাদ, লড়াই, আন্দোলন।
আজকের ভারত নিজেকে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতির অন্যতম বলে গর্ব করে। কিন্তু অর্থনীতির গ্রাফের সীমাবদ্ধতা আছে। সেখানে ভরসা-বিশ্বাসের রেখাচিত্র আঁকা যায় না। জিডিপি বলতে পারে উৎপাদনের গল্প। কিন্তু বলতে পারে না, কতজন ছাত্র রাতে ঘুমোতে পারেনি এই ভেবে যে তাদের পরিশ্রম কোনও অদৃশ্য দুর্নীতি চক্রের কাছে হেরে যাবে।
যন্তর মন্তরের আন্দোলন তাই কেবল ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি নয়। এ রাষ্ট্রের কাছে জবাবদিহির লড়াই। এমন এক শিক্ষাব্যবস্থার দাবি, যেখানে মেধার চেয়ে প্রভাব বড় হবে না। যেখানে পরীক্ষা মানে প্রতিযোগিতা হবে, প্রতারণা নয়। যেখানে সরকার ছাত্রদের প্রতিপক্ষ হবে না।
ইতিহাস ছোট ছোট মানুষের ছোট ছোট কাজ দিয়ে তৈরি হয়। দিল্লির এই তরুণ-তরুণীরাও শুধু ইতিহাস লিখতে বেরোয়নি। তারা শুধু ন্যায্য পরীক্ষার ভিত্তিতে ভর্তির অধিকার চাইতে বেরিয়েছিল। কিন্তু ইতিহাসের আর একটা অভ্যাস আছে। সে কখনও কখনও সবচেয়ে সাধারণ দাবিকেই সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রশ্নে পরিণত করে। আজ সেই প্রশ্ন যন্তর মন্তর ছাড়িয়ে দেশের প্রান্তরে প্রান্তরে উঠেছে। তাদের হাতে কোনও পাথর নেই। কোনও অস্ত্র নেই। আছে শুধু প্রশ্ন আর দেশের সংবিধান, আর আছে তারুণ্যের বুকভরা স্বপ্নের ঝাঁপি । আর সরকারের হাতে? লাঠি। কাঁদানে গ্যাস। ব্যারিকেড।
ইতিহাস বহু সাম্রাজ্যের পতন দেখেছে। কিন্তু কোনও সাম্রাজ্যকে প্রশ্নের কাছে জিততে দেখেনি। কারণ প্রশ্নের এক অদ্ভুত ক্ষমতা আছে। তাকে আটক করা যায়। চেপে রাখা যায়। কিন্তু মুছে ফেলা যায় না।
সেদিন দিল্লির রাস্তায় শুধু ছাত্রছাত্রীদের ওপর লাঠি পড়েনি। লাঠি পড়েছে সেই বিশ্বাসের ওপর, যে রাষ্ট্র তার সন্তানদের কথা শুনবে। কাঁদানে গ্যাস শুধু চোখ জ্বালায়নি। জ্বালিয়ে দিয়েছে সেই আত্মবিশ্বাসকেও, যার ওপর একটি প্রজন্ম নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলে। আজ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেন অদৃশ্য সুতোয় বাঁধা। দিল্লিতে একটি লাঠি উঠলে তার প্রতিধ্বনি শোনা যায় কলকাতার কলেজ স্ট্রিটে, কেরলের ক্যাম্পাসে, পাঞ্জাবের বিশ্ববিদ্যালয়ে, অসমের ছাত্রাবাসে। কারণ প্রশ্নপত্রের ভাষা আলাদা। কিন্তু স্বপ্নের ভাষা এক। আর সরকার যখন সেই ভাষার জবাবে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে, তখন প্রতিবাদও এক ভাষায় কথা বলতে শেখে।
তবু ইতিহাস আশার কথাও বলে। কারণ প্রতিটি লাঠির বিপরীতে কোথাও না কোথাও একজন ছাত্র আবার বই খুলে বসে। প্রতিটি কাঁদানে গ্যাসের ধোঁয়ার ওপারে আবার কেউ না কেউ একটি পোস্টার লেখে। প্রতিটি ব্যারিকেডের সামনে আবার কেউ দাঁড়ায়। এবং প্রতিবারই সরকারকে নতুন করে একটি পুরনো প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় — আপনি কি নাগরিককে শাসন করতে চান, না তার বিশ্বাস অর্জন করতে চান?
যন্তর মন্তরের উত্তর এখনও লেখা শেষ হয়নি। কিন্তু একটি কথা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট। একটি প্রশ্নপত্র ফাঁস হলে একটি পরীক্ষা নষ্ট হয়। আর যখন সেই প্রশ্নপত্রের জবাবে সরকার লাঠি তোলে, তখন পরীক্ষায় বসে পুরো গণতন্ত্র।
তাই গণতান্ত্রিক রাস্তাতেই পথে শুধু ছাত্ররাই রাস্তা দখল করছে তা নয়। নামছেন নাগরিক সমাজও। তাদেরও সন্তান-সন্ততির ভবিষ্যত বিক্রি হয়ে যাচ্ছে দুর্নীতির পাকচক্রে। তাই লড়াই তো শুধু ছাত্রছাত্রীদের নয়, বৃহত্তর সমাজের।
যে কৃষক ভোরের অন্ধকারে জমিতে নামে, হাঁটুসমান কাদা আর দুপুরের আগুনরোদ পেরিয়ে ধানের শিষে ভবিষ্যৎ ফলায়, সে শুধু খাদ্য ফলায় না — সে তার সন্তানের আগামী দিন বোনে। যে শ্রমিকের শরীর থেকে প্রতিদিন ঘামের নদী গড়িয়ে পড়ে, সে শুধু মজুরি উপার্জন করে না — সে তার সন্তানের হাতে একটা সুন্দর-মসৃণ ভবিষ্যৎ তুলে দেওয়ার স্বপ্ন দেখে। যে মধ্যবিত্ত মা নিজের থালার মাছের টুকরো সন্তানের পাতে সরিয়ে দেন, তিনি শুধু নিজের খিদে চাপা দেন না — তিনি নিজের জীবন থেকে একটু একটু করে আগামীকে বাঁচিয়ে রাখেন।
কিন্তু ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দুর্নীতিবাজরা কখনও রাতের অন্ধকারে আসে না। তারা আসে দিনের আলোয়, পতাকা হাতে, প্রতিশ্রুতির ভাষণ নিয়ে। তারা মানুষের পকেট থেকে শুধু টাকা চুরি করে না; তারা চুরি করে কৃষকের ঋণমুক্তির আশা, শ্রমিকের ঘামের মূল্য, মায়ের ত্যাগের অর্থ, সন্তানের ভবিষ্যৎ। দুর্নীতি তখন কেবল একটি অপরাধ নয়; তা হয়ে ওঠে আগামী প্রজন্মের বিরুদ্ধে সংঘটিত যুদ্ধ।
এই কারণেই এই লড়াই কোনও এক দলের বিরুদ্ধে আরেক দলের লড়াই নয়। এ সেই মানুষগুলোর লড়াই, যাদের হাতের কড়া, কপালের ঘাম আর চোখের স্বপ্নের ওপর দাঁড়িয়ে আছে এই দেশ। এ এমন এক সমাজের লড়াই, যেখানে ক্ষমতা আর ভবিষ্যৎ বিক্রির পণ্য হবে না। কারণ একটি দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ তার মাটি নয়, তার বাজার নয়, তার শেয়ার সূচকও নয় — তার সন্তানদের আগামী। আর যে সরকার নিজের সন্তানদের ভবিষ্যৎ বিক্রি করে, শেষ পর্যন্ত তাদের ভবিষ্যৎও অন্ধকারের অতলে হারিয়ে যায়।
প্রকাশ: ২৩-জুলাই-২০২৬
শেষ এডিট:: 23-Jul-26 17:56 | by 4
Permalink: https://cpimwestbengal.org/the-questions-state-fear-the-most
Categories: Current Affairs
Tags: bjp, neet, neet scam, dharmendra pradhan
বিভাগ / Categories
- Booklets - পুস্তিকা (4)
- Campaigns & Struggle - প্রচার ও আন্দোলন (172)
- Corporation Election - পৌরসভা নির্বাচন (6)
- Current Affairs - সাম্প্রতিক ঘটনাবলী (155)
- External Links - প্রাসঙ্গিক লিংক (4)
- Fact & Figures - তথ্য ও পরিসংখ্যান (82)
- Highlight - হাইলাইট (97)
- International - আন্তর্জাতিক (3)
- Party Documents - পার্টি পুস্তিকা (3)
- People-State - জনগণ-রাজ্য (6)
- Press Release - প্রেস বিজ্ঞপ্তি (155)
- Programme - কার্যক্রম (1)
- Truth Beneath - তথ্য (18)
- Uncategorized - অশ্রেণীভুক্ত (339)
সাম্প্রতিক পোস্ট / Latest Posts
যে প্রশ্নে রাষ্ট্র ভয় পায়
- শমীক লাহিড়ী
কেন্দ্রীয় কমিটির বিবৃতি
- ওয়েবডেস্ক
মানুষের উপরেই ভরসা রাখার পথনির্দেশ
- প্রদোষকুমার বাগচী
পুঁজিবাদী উন্নয়নের ভ্রান্ত প্রতিশ্রুতি
- প্রভাত পট্টনায়ক




