টেলিভিশনে মুখ্যমন্ত্রী, রাস্তায় বামপন্থীরাই

Author
ওয়েবডেস্ক

CM : On TV - LEFT's: On Streets

প্রকাশ: ২২-মার্চ-২০২০

কলকাতা, ২১ মার্চ— মুখ্যমন্ত্রীকে টিভিতে দেখা যাচ্ছে, কিন্তু রাস্তায় দেখা যাচ্ছে না আপৎকালীন সরকারি পরিকাঠামো। করোনা সচেতনতামূলক প্রচারে নেই, মাস্ক-স্যানিটাইজার বন্দোবস্ত করায় নেই, সন্দেহভাজন রোগীদের চিহ্নিতকরণে নেই, রোগ পরীক্ষার বন্দোবস্ত করায় নেই, হাসপাতালের পরিকাঠামো বন্দোবস্ত করায় নেই, এমনকি চিকিৎসক নার্সদের প্রয়োজনীয় মাস্কের সরবরাহেও নেই, বাজারে মজুতদারি রুখতে নেই, প্রায় কোথাও নেই। তৃণমূলের বড় বড় নেতা মন্ত্রীরা টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে মুখে দামি মাস্ক লাগিয়ে জনগণকে সরকারি বন্দোবস্তের কথা বলে আশ্বাস দিচ্ছেন। উদ্বিগ্ন জনসাধারণ বাস্তবের সঙ্গে আশ্বাসের কোনও মিল না পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। করোনা ছড়াচ্ছে, আতঙ্কও ছড়াচ্ছে। 

ক্রমবর্ধমান আতঙ্কের এই বাজারে অভাবনীয় দায়বদ্ধতা নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিভিন্ন সিপিআই(এম)’র এবং বামপন্থী গণসংগঠনের কর্মীরা। জেলায় জেলায় অবাণিজ্যিকভাবে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করে বিতরণ করা থেকে শুরু করে গুজব ঠেকিয়ে করোনায় করণীয় সম্পর্কিত লিফলেট বিলি করা, প্রশাসনকি ঘাটতি ঠেকাতে প্রতিদিন কর্তৃপক্ষের কাছে ডেপুটেশন দেওয়া, বিদেশ কিংবা ভিনরাজ্য থেকে ঘরে ফেরা ‘সন্দেহভাজন রোগী’কে বুঝিয়ে সুঝিয়ে ঘরবন্দি থাকতে রাজি করানো পর্যন্ত সব কাজে তৎপরতা দেখাচ্ছেন এসএফআই, ডিওয়াইএফআই, বিজ্ঞান মঞ্চের কর্মীরা। যেভাবে তাঁরা নেমেছেন তাতে দলমত নির্বিশেষে বিভিন্ন ক্লাব সংগঠন তাঁদের ডেকে নিয়ে পরামর্শ নিচ্ছে। 

মধ্য কলকাতার কিংবা বারাকপুরের যে এলাকায় তৃণমূলের ছোট থেকে বড় নেতারা দুর্গাপুজো, রামনবমী, জন্মাষ্টমী, পাড়ার জলসা, সবেতে হাঁকিয়ে রাস্তায় থেকেছেন, রাস্তা আটকে মাইক বাজিয়ে প্রোগ্রাম করেছেন, কখনো ইলিশ উৎসব করেছেন, কখনো রসগোল্লা উৎসব করেছেন, এখন সবাই হাওয়া। নিউবারাকপুর স্টেশনের কাছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে পথচলতি মানুষ আর ফুটপাতের দোকানে দাঁড়ানো ক্রেতাদের হাত সাফাই করিয়ে দিচ্ছিলেন বামপন্থী কর্মীরা। হাতে ধরিয়ে দিচ্ছিলেন করোনো সম্পর্কে সচেতনতামূলক লিফলেট। কৃতজ্ঞমুখে এক ব্যক্তি বলেই ফেললেন, ‘কোনও দোকানে হ্যান্ড স্যানিটাইজার পাচ্ছি না, তৃণমূলের পার্টি অফিসে বলেও কোনও লাভ হয়নি। এদিকে বাড়িতে বাচ্চাও আছে, বুড়োমানুষও আছেন। ওদের নিয়ে চিন্তা হচ্ছে, কী করি বলুন তো!’ বামপন্থী কর্মীরা তাঁকে আশ্বস্ত করলেন, ‘হ্যান্ড স্যানিটাইজার না পেলে জাস্ট একটা লাইফবয় সাবান কিনে নিয়ে যান। ওটা দিয়ে ভালো করে হাত ধুলেও চলবে।’ 

এই আশ্বাস, পরামর্শ, সাহস জোগানোর জন্যও রাস্তায় শাসক দলের কেউ নেই। রাস্তার দু’পাশে ‘দিদি’র ছবি সহ তাদের লাগানো বড় বড় ফ্লেক্স আর কাটআউটগুলো এখন বিদ্রুপের মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে। কলেজের ছাত্ররা দেওয়ালে সেঁটে দিয়ে গেছে করোনা সংক্রান্ত সচেতনতামূলক পোস্টার। সেগুলোই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে লোকে পড়ছে।  

হ্যান্ড স্যানিটাইজার অবাণিজ্যিকভাবে তৈরি করে বিলি করার ক্ষেত্রে অসাধারণ ভূমিকা পালন করছেন পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের কর্মীরা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের সঙ্গে তাঁদের সহযোগিতামূলক ভূমিকা স্বীকার করে নিচ্ছেন সরকারের জনস্বাস্থ্য বিভাগের কর্তৃপক্ষও। পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের উত্তর ২৪ পরগনা জেলা কমিটির সহায়তা নিয়ে রাজ্যের জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর সহজে হ্যান্ড স্যানিটাইজার প্রস্তুতির একটি ভিডিও তৈরি করেছে যা সোশ্যাল মিডিয়াতেও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন ল্যাবে তৈরি হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিলি করছেন প্রেসিডেন্সি ছাত্রসংসদের কর্মীরা। মাত্র ৫০ পয়সা খরচে কীভাবে টিস্যু পেপার দিয়ে একটা মাস্ক তৈরি করে ফেলা যায় যা একবার ব্যবহারের পরে নষ্ট করে দিতে হবে তাও হাতে কলমে জনসাধারণকে শেখাচ্ছেন বিজ্ঞান মঞ্চের কর্মীরা।

বছরের এই সময় থেকেই শুরু হয় রক্তের সঙ্কট। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে জমায়েত বন্ধ, তাই বন্ধ হয়ে গেছে বেশিরভাগ স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরও। কিন্তু রক্তের প্রয়োজন তো থেমে থাকে না। তাই এরমধ্যেও সোমবার রক্তদান শিবিরের আয়োজন করছে এসএফআই। সংগঠনের রাজ্য দপ্তরে ঐদিন জমায়েত না করে শিবির করবে তারা। এসএফআই নেতৃত্ব জানিয়েছেন, একসঙ্গে তিনজনের বেশি একত্রিত হবেন না ঐ শিবিরে। 

শনিবার কলকাতায় এজেসি বসু রোডে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের রাজ্য দপ্তরে সংগঠনের কার্যকরী সভাপতি অধ্যাপক সত্যজিৎ চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ মহাপাত্র, সহসভাপতি উৎপল দত্ত, কলকাতা জেলার সভাপতি অনুপম দেব সরকার, সম্পাদক শেখ সোলেমন এবং পিআরসি’র সাধারণ সম্পাদক ডাঃ ফুয়াদ হালিম রাজ্যজুড়ে সচেতনতা প্রচারের আহবান জানিয়েছেন। এখানে বিজ্ঞানকর্মীরা সহজে ‘হ্যান্ড স্যানিটাইজার’ তৈরির পদ্ধতি প্রদর্শন করে দেখান। গুজব ও আতঙ্ক না ছড়িয়ে মানুষকে করোনা প্রতিরোধে সচেতন করার জন্য বিজ্ঞানসম্মত প্রচারের আবেদন করেছেন তাঁরা। প্রয়োজনের জন্য করোনা হেল্প লাইন নম্বরও দিয়েছেন, এটা হলো ০৩৩- ২৩৪১২৬০০ এবং ১৮০০৩১৪৪২২২।

শনিবার হাওড়ায় জগাছা, লিলুয়া, সালকিয়া ইত্যাদি জায়গায় সচেতনতা ক্যাম্প করেছেন বামপন্থী কর্মীরা। জলপাইগুড়ি শহর সহ বিভিন্ন জেলাতেও এইরকম সচেতনতা ক্যাম্প করে মানুষকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। দু’জন করে টিম তৈরি করে বাড়িতে বাড়িতেও যাওয়া হচ্ছে। শনিবার বুদবুদ এলাকায় বিজ্ঞান মঞ্চের উদ্যোগে করোনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা গড়ে তোলার শিবির সংগঠিত করা হয়েছে। সেখানেও ঘরে বসে হ্যান্ড স্যানিটাইজার কী করে তৈরি করতে হয় তা শেখানো হয়। মাস্ক তৈরি করার পদ্ধতি বলে দেওয়া হয়।  এদিন জামুড়িয়ার ডিওয়াইএফআই কর্মীরা আসানসোল নগরনিগমের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গরিব মানুষের বসবাসের এলাকায় করোনা প্রতিরোধের জন্য প্রচার চালান। দুর্গাপুরের শ্যামপুর এলাকায় করোনা প্রতিরোধ কর্মসূচি চালানো হলো ইউসিআরসি’র উদ্যোগে। উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার পরিবহণ শ্রমিকদের করোনা সংক্রমণ থেকে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা দানের জন্য বেশ কিছু দাবি নিয়ে এদিন ম্যানেজিং ডিরেক্টরকে ডেপুটেশন দিয়েছে নর্থ বেঙ্গল স্টেট ট্রান্সপোর্ট এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন।

আপনার মতামত

এই লেখাটি সম্বন্ধে আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।

This Is CAPTCHA Image

শেষ এডিট:: 22-Mar-20 13:12 | by 2
Permalink: https://cpimwestbengal.org/cm-on-tv-lefts-on-streets
Categories: Current Affairs
Tags: coronainindia, coronawb, covid-19, cpimwb
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:



লেখক/কিওয়ার্ড