দিল্লি হিংসায় ধৃতদের নাম, পরিচয় প্রকাশের দাবিতে এবার জনস্বার্থ মামলা বৃন্দা কারাতের

Author
ওয়েবডেস্ক

Brinda Karat Filing PIL: Delhi Violence

প্রকাশ: ০৬-মার্চ-২০২০

নয়াদিল্লি, ৫ মার্চ— দিল্লিতে সাম্প্রদায়িক হিংসায় যুক্ত থাকার অভিযোগে পুলিশ গ্রেপ্তার এবং আটকের যে কথা বলছে তার তালিকা প্রকাশ্যে জানানোর দাবিতে দিল্লি হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দাবি করলেন সিপিআই (এম) পলিট ব্যুরো সদস্য বৃন্দা কারাত। আবেদনে তিনি বলেছেন, পুলিশ কন্ট্রোল রুম বা থানার বাইরে ধৃত বা আটক ব্যক্তিদের নাম পরিচয়ের তালিকা টানাতে হবে। এই মর্মে হাইকোর্ট নির্দেশ দিক দিল্লি পুলিশকে, আবেদনে জানিয়েছেন বৃন্দা কারাত। ধৃত এবং আটকদের সম্পর্কে আদালত পুলিশের থেকে স্ট্যাটাস রিপোর্টও চেয়ে পাঠাক বলে আবেদন জানিয়েছেন তিনি। 

আবেদনে বৃন্দা কারাত বলেছেন, সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী দিল্লি পুলিশ গ্রেপ্তার বা আটক করেছে দেড়হাজারের বেশি। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশের কাজের এই অস্বচ্ছতা ভুল তথ্য এবং অবিশ্বাস তৈরি করছে, যা আইনেরও পরিপন্থী বলে তিনি আবেদনে বলেছেন। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকেও তিনি এই বিষয়গুলি তুলে ধরেন। বৃন্দা কারাত বলেন, একমাত্র দয়ালপুর থানায় ২৭ জনকে গ্রেপ্তার হওয়ার ব্যক্তিদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তারমধ্যে ২৬জনই মুসলিম! বাকি জায়গায় সেই তালিকাও দেওয়া হয়নি। এরফলে দিল্লি পুলিশের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। 

উল্লেখ্য, বাইরে থেকে প্রায় হাজার দুয়েক হিন্দুত্বের বাহিনী দিল্লিতে এসে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে, সোশ্যাল মিডিয়াতেও দেখা গেছে সংগঠিত হিন্দুত্বের বাহিনীই হামলা চালাচ্ছে। পুলিশকেও বহু জায়গায় তাদের সহযোগিতা করতে দেখা গেছে। এমনকি আহতদের লাঠিপেটা করে জনগণমন গাইতে বাধ্য করার ভিডিও ছড়িয়েছে। নিহত ৫৩জনের মধ্যেও অধিকাংশই মুসলিম। এই অবস্থায় পুলিশ আক্রমণকারী বলে যাদের গ্রেপ্তার করছে তাঁরাও সংখ্যায় অধিকাংশই মুসলিম হওয়াটা অবাস্তব বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ঘরবাড়ি ছাড়া মুসলিমরাও কয়েকদিন ধরেই অভিযোগ জানাচ্ছেন, তাঁরা পুলিশে অভিযোগ জানাতে গেলে উলটে পুলিশ তাঁদেরই গ্রেপ্তার করছে। তাঁদের বিরুদ্ধেই দাঙ্গার মামলা দিয়ে দিচ্ছে। এমনকি জখম ব্যক্তিরা হাসপাতালেও চিকিৎসা করাতে যেতে পারছেন না। সেখানে গেলেই পুলিশ কেস হচ্ছে এবং পুলিশ আক্রান্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধেই আক্রমণের মামলা দায়ের করছে। এই কারণেই আগেই একবার চিঠি দিয়ে বৃন্দা কারাত ধৃত ও আটকদের নাম পরিচয় প্রকাশের দাবি জানিয়েছিলেন। এইদিন সেই কথাও ফের একবার উল্লেখ করেছেন বৃন্দা কারাত। 

পুলিশের ভূমিকার কথা বলতে গিয়ে বৃন্দা কারাত এইদিন ফয়জানের পরিবারের কথা জানিয়েছেন। জনগণমন গাইতে বাধ্য করে যে যুবকদের মারধর করছিল পুলিশ, তাদের মধ্যে পরে ফয়জানের মৃত্যু হয়। ফয়জানের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন বৃন্দা কারাত এবং সিপিআই (এম) কর্মীরা। বৃন্দা বলেছেন, ফয়জানের মা তাঁর কাছে অভিযোগ করেছেন কিভাবে বারে বারে থানায় গেলেও পুলিশ ফয়জানকে ছাড়েনি। পরে যখন বুঝেছে ফয়জানের অবস্থা খারাপ তখন রাত দেড়টার সময়ে তাকে ছেড়েছে। যখন আর কিছুই করার ছিল না। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ফয়জানের মৃত্যু হয়েছে। 

বৃন্দা কারাত এদিন রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, রাজ্য সরকার ক্ষতিপূরণের জন্য ফরম পূরণ করাচ্ছে অথচ তাঁর কোনও ভিডিওগ্রাফি বা ছবি তোলা থাকছে না। নথিও থাকছে না আক্রান্তদের কাছে। দোকান, ঘর সব জ্বলে গেছে ধ্বংসস্তুপ পরিষ্কার করতে গেলেও সবহারা এই মানুষগুলি ভাবছে পরে যদি প্রশাসন অস্বীকার করে যে তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত নন, তাহলে কিভাবে তা প্রমাণ হবে? সেক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ মিলবে না। নিহত রিকশাচালক প্রেম সিংয়ের বিধবা স্ত্রীর অবস্থা বলতে গিয়ে বৃন্দা জানিয়েছেন, তিনটি শিশু রয়েছে এবং তিনি সন্তানসম্ভবা। তাঁর কোনো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নেই। একই অবস্থা নিহত মুশারফের স্ত্রী মালিকার। হিন্দু বাড়িওয়ালা অনেক চেষ্টা করেছেন হিন্দুত্ববাদীদের হাত থেকে মুশারফকে বাঁচাতে। কিন্তু তিন তলার উপরে উঠে তাঁকে খুন করে হিন্দুত্ববাদীরা। মলিকারও এখন একই অবস্থা। তাঁরও কোনও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নেই। কিভাবে তাঁরা ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন, তার কোনও নির্দিষ্ট পন্থা নেই। দিল্লির সরকারের উচিত এদের কাছে পৌঁছে প্রয়োজনীয় সবকিছুর বন্দোবস্ত করার। অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিহতরা পুরুষ হওয়ার কারণে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে মহিলাদেরই। অথচ স্বামীহারা মুসলিম মহিলারা এখনও কিছুদিন বাইরের লোকেদের সামনে আসবেন না। তাহলে কিভাবে তাঁরা ক্ষতিপূরণের দাবি জানাতে পারবেন? বৃন্দা কারাত এইসবই দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়ালের নজরে এনেছেন বলে জানিয়েছেন। তারপরেও কোনও কাজ হচ্ছে না বলে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। 

সিপিআই (এম)’র উদ্যোগে দিল্লি সংহতি ত্রাণ এবং পুনর্বাসন কমিটির একটি রিপোর্টও এদিন প্রকাশ করেছেন বৃন্দা কারাত এবং পার্টির দিল্লি রাজ্য কমিটির সম্পাদক কেএম তিওয়ারি। রিপোর্টে কিভাবে এই ত্রাণ এবং পুনর্বাসন কমিটি কাজ করছে তা বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে। সমীক্ষা দল জীবন ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির সমীক্ষা করছে। কিভাবে বাড়িঘরের সঙ্গে বহু পরিবারের সমস্ত নথিপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে জানানো হয়েছে সে কথা। জানানো হয়েছে ক্ষতিপূরণের ফরম পূরণের ক্ষেত্রের বাস্তব সমস্যাগুলির কথা। হিংসা হামলার সময়ে অনেক ক্ষেত্রে মহিলাদের যৌন হেনস্তা করা হয়েছে। সেই সবও পুলিশের কাছে অভিযোগ হিসাবে দায়ের করা যায়নি। সমীক্ষা দল সেগুলিও নথিভুক্ত করার কাজ করছে। খাবার, পোশাক, বাসনপত্র সহ ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। ত্রাণ শিবির এবং কোনও কোনও এলাকায় এইগুলি সরবরাহ করেছে কমিটি। বৃন্দা কারাতের নেতৃত্বে আরেকটি দল নিহতদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছেছে। নিহত ও আহতদের পরিবারকে ত্রাণ এবং আইনি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিপূরণের ফরম পূরণে এফআইআর’র কপি না থাকায় যে আইনি সমস্যা হচ্ছে তাতে সহায়তা করছেন আইনজীবীদের দল, জানানো হয়েছে রিপোর্টে। 

আপনার মতামত

এই লেখাটি সম্বন্ধে আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।

This Is CAPTCHA Image

শেষ এডিট:: 06-Mar-20 14:26 | by 2
Permalink: https://cpimwestbengal.org/brinda-karat-filing-pil-delhi-violence
Categories: Current Affairs
Tags: cpim, delhi violence
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:



লেখক/কিওয়ার্ড